ঢাকার গুলশান এলাকায় সিটি ব্যাংক ৪০ কাঠা জমির ওপর নতুন নিজস্ব ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এখানে ২৮ তলা ভবন গড়ে তোলা হবে। ইতিমধ্যেই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেয়েছে।
গত বুধবার সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এই ভবন নির্মাণ এবং নতুন ২০ কাঠা জমি কেনার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সিটি ব্যাংক ১৯৮৩ সালে দেশের ১২ জন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর উদ্যোগে গড়ে ওঠে। ১৯৮৬ সালে এটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। একসময় সমস্যা ছিলো, তবে ধীরে ধীরে ব্যাংকটি দেশীয় বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষে ওঠে। ২০০৯ সালে ব্যাংকটি প্রথমবারের মতো নিজস্ব ভবনে প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করে।
মূল কার্যালয় ছিল গুলশান–২ সংলগ্ন গুলশান অ্যাভিনিউয়ে ২০ কাঠার জমির ওপর নির্মিত আটতলা ভবনে। জনবল বাড়ার কারণে এই ভবন যথেষ্ট ছিল না। তাই পুরোনো ভবন ভেঙে ২৮ তলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ২০ কাঠা জমি ক্রয় করে মোট ৪০ কাঠা জমির ওপর ভবন নির্মাণ হবে।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ায় সিটি ব্যাংক বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে, নতুন জমি কেনার ব্যয় ৩৪৫ কোটি টাকা। জমি ও আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে মোট খরচ দাঁড়াবে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। ৪০ কাঠা জমির ওপর নির্মিত ভবনের জন্য মোট খরচ ধরা হয়েছে ৮৫৫ কোটি টাকা।
সিটি ব্যাংক জানায়, ৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক জমি ক্রয় ও ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। অনুমোদনের পর গত বুধবার ব্যাংকের পর্ষদ সভায় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
আগের ২০ কাঠা জমির ওপর থাকা ভবন ভেঙে নতুন ২৮ তলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। রাজউক ইতিমধ্যেই ২৮ তলা ভবনের অনুমোদন দিয়েছে। ভবনের ৫ তলা বরাদ্দ থাকবে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য, বাকি ২৩ তলাজুড়ে প্রধান কার্যালয় কাজ করবে। জমি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভবনের উচ্চতা ও পরিসর আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন বলেন, “পৃথিবীজুড়ে ব্যাংকের ভবন ও কার্যালয় নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন হয়। আমরাও দেশের ব্যাংক খাতে এমন একটি উদাহরণ তৈরি করতে চাই। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায় দ্রুত আমাদের নিজস্ব ভবন তৈরি করে কার্যক্রম শুরু করব।”
বর্তমানে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ভাড়া ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। নতুন ভবন নির্মাণ শুরু হওয়ায় প্রধান কার্যালয় সাময়িকভাবে ভাড়া ভবনে সরানো হয়েছে। ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কর্মীর সংখ্যা ৭ হাজার ১০০-এর বেশি। দেশজুড়ে ১৩৪টি শাখা ও ৭০টি উপশাখা রয়েছে।
সিটি ব্যাংক ২০২৪ সালে দেশের প্রথম হাজার কোটি টাকার মুনাফার ক্লাবে প্রবেশ করেছে। সমন্বিত মুনাফা ১ হাজার ১৪ কোটি টাকা। ২০২৩ সালে সমন্বিত মুনাফা ছিল ৬৩৮ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা বেড়েছে ৩৭৬ কোটি টাকা বা ৫৯ শতাংশ। দেশীয় ব্যাংকের মধ্যে মুনাফার দিক থেকে সিটি ব্যাংক দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি–সেপ্টেম্বর) কর–পরবর্তী মুনাফা ছিল ৭২২ কোটি টাকা।

