গত বছরের শেষ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা। এক বছরে, অর্থাৎ ২০২৫ সালে, আমানত বেড়েছে ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ ছাড়া ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আমানত এখন ২২ হাজার কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ৫ হাজার কোটি টাকা বেশি।
গতকাল শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ইসলামী ব্যাংকের দুই দিনব্যাপী ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. এম জুবায়দুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলন উদ্বোধন করেন।
সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওমর ফারুক খাঁন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খুরশীদ ওয়াহাব, নিরীক্ষা (অডিট) কমিটির চেয়ারম্যান মো. আবদুস সালাম, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা (রিস্ক ম্যানেজমেন্ট) কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম মাসুদ রহমান ও স্বতন্ত্র পরিচালক মো. আবদুল জলিল। এছাড়া বক্তব্য দেন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হুসাইন, মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদার ও ড. এম কামাল উদ্দীন জসিম।
সম্মেলনে জানানো হয়, গত এক বছরে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ৭৬ হাজার কোটি টাকা। ২০২৫ সালে ব্যাংক আমদানি ও রপ্তানি করেছে যথাক্রমে প্রায় ৬০ হাজার কোটি ও ৩২ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকসংখ্যা ৩ কোটি; গত এক বছরে গ্রাহকসংখ্যা বেড়েছে ৫০ লাখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যাংকের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম জুবায়দুর রহমান বলেন, “ইসলামী ব্যাংক দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক। এই ব্যাংকের ওপর নির্ভর করছে দেশের অর্থনীতি। ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই ব্যাংককে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওমর ফারুক খাঁন বলেন, “দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইসলামী ব্যাংকের অবদান অবিস্মরণীয়। জুলাই বিপ্লবের পর পরিবর্তিত ব্যাংকিং পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের আস্থা ফিরে এসেছে। ২০২৫ সালে নানা চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে ইসলামী ব্যাংক দেশের ব্যাংকিং খাতে সবচেয়ে বেশি আমানত সংগ্রহ করেছে। এছাড়া সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় আহরণ করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।”

