নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে সরকার ১০ বছর মেয়াদি সুকুক বা ইসলামি বন্ডের মাধ্যমে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে ব্যাংক গ্রাহকদের ছোট অঙ্কের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু করেছে। তবে অভিযোগ আছে, সবাই সমান হারে টাকা পাচ্ছেন না। নীতিমালায় জটিল শর্তারোপের কারণে অনেক গ্রাহক এখনও টাকা পাচ্ছেন না। গ্রাহক ভোগান্তি কমছে না।
এই পরিস্থিতিতে সরকার ব্যাংক থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে, যা গ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তারা বলছেন, ব্যাংক এখনো পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু করেনি। এমন অবস্থায় সরকার ঋণ নিলে ব্যাংক কি চলবে, সেটি প্রশ্নবিদ্ধ। যে ব্যাংক সাধারণ গ্রাহকের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করতে পারছে না, সেটি থেকে সরকার কেন ঋণ নেবে, গ্রাহকরা তা অনুধাবন করতে পারছেন না।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বয়োজ্যেষ্ঠ গ্রাহক মো. আবু মাসুম বলেন, “এটা কোনোভাবেই যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হতে পারে না। যেখানে সরকার পাঁচ ব্যাংকের সাধারণ আমানতকারীর টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য মূলধন দিয়েছে। কিন্তু ব্যাংক গ্রাহকের আমানত ফেরত দিচ্ছে না। নানাভাবে গ্রাহকদের হয়রানি করছে। সাধারণ আমানতকারীরা তাদের টাকা ফেরত পাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ঘোষণা পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে দেশের আর্থিকভাবে শক্তিশালী ব্যাংকগুলো থেকে টাকা নেয়া যেত। অথচ যে ব্যাংক এখনো শুরু হয়নি, সেটি থেকে ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সাধারণ আমানতকারীর প্রতি সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।”
তিনি আরও বলেন, “আমি ৮০ বছরের, অবসরের পর আমার সব টাকা ছেলের নামে এক্সিম ব্যাংকে এফডিআর করেছি। আমার প্রতিদিন অনেক ওষুধ খরচ হয়। ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে না পারায় অসুস্থতা বেড়ে যাচ্ছে। যদি ব্যাংকে টাকা রেখে চিকিৎসার অভাবে আমি মারা যাই, তাহলে দায় কে নেবে? বাংলাদেশ ব্যাংক কি আইনিভাবে নাকি ক্ষমতার অপব্যবহারে গ্রাহকদের এমন ভোগান্তিতে ফেলেছে?”
গত রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, সরকার শরিয়াহ পদ্ধতিতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এর জন্য ১০ বছর মেয়াদি সুকুক বা ইসলামি বন্ড ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকটিকে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন দিয়েছে। এর অর্ধেক এই বন্ডে বিনিয়োগ করবে ব্যাংক। এটি হবে নবগঠিত ব্যাংকের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। ব্যাংক বছরে ৯.৭৫ শতাংশ মুনাফা পাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকার ব্যাংকের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা পেইড অব ক্যাপিটাল হিসেবে দিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের আমানত বিমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যা দিয়ে আমানতকারীর টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। বন্ড ছাড়ার মাধ্যমে ব্যাংকের আয়ের পথ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, সরকার ব্যাংককে যে ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে, তা ব্যাংকের পেইড অব ক্যাপিটাল। “এই টাকা থেকে গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়া হবে না।”
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদের সভাপতিত্বে গঠিত শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি কমিটি গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুটি সভা করেছে। সভায় ইজারা পদ্ধতিতে সুকুক ইস্যু বিষয়ে একমত হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাতটি আবাসন প্রকল্প এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের কিছু সেবায় এই বন্ডের অর্থ বিনিয়োগ করা হবে।

