বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় আবার পেছিয়েছে আদালত। আজ মঙ্গলবার সকালে আদালত নতুন তারিখ হিসেবে ১৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করেছে।
এর আগে আদালত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ১৩ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছিলেন। তবে এ পর্যন্ত এটি সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ৯২ বার পরিবর্তন হয়েছে। এটি দেশে বিচার ব্যবস্থার ধীরগতি এবং জটিলতার প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে হ্যাকাররা প্রায় ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি করে নেয়। এ ঘটনায় দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আর্থিক বিশ্বাসহীনতা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
চুরির ঘটনার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। মামলা করা হয় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী। পরদিন ১৬ মার্চ আদালত মামলাটির তদন্তভার সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) কে দেয়। এরপর থেকে সিআইডি এই মামলার তদন্ত পরিচালনা করছে।
তবে প্রায় ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ কারণে মামলা এবং তার তদন্ত প্রক্রিয়া বারবার স্থগিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জটিলতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন এবং প্রমাণ সংগ্রহের সীমাবদ্ধতার কারণে এই দীর্ঘ বিলম্ব ঘটেছে।
মামলার ধীরগতি ও প্রতিবেদন জমার দেরি দেশে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক চাহিদার ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচার ব্যবস্থার প্রতি অসন্তোষও বাড়ছে। বিচার ও তদন্ত সূত্র জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির ১৮ তারিখ পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা না হলে আদালত বিষয়টি নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিতে পারে।

