শরিয়াহ নীতিমালা অনুসরণ এবং ব্যাংকগুলোর লোকসানের মধ্যেও আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক একদিকে ইসলামী আর্থিক নীতি মেনে চলছে, অন্যদিকে সাধারণ জনগণের স্বার্থ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাঁচটি একীভূত ব্যাংকের আমানত ফেরত নিয়ে চলমান উদ্বেগের বিষয়ে তিনি এ কথা বলেন। গভর্নর জানান, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে শরিয়াহ কাউন্সিলের সুপারিশের ভিত্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৪–২৫ অর্থবছরে কোনো ব্যাংক যদি উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়ে, তাহলে সে সময় মুনাফা বণ্টন করা যাবে না। সংশোধিত হিসাবপত্রে বড় ধরনের ক্ষতি চিহ্নিত হওয়ায় এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে ইসলামী আর্থিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা সম্ভব হবে।
ড. আহসান এইচ মনসুর স্পষ্ট করে বলেন, ২০২৪ সালের জন্য কোনো লাভ না থাকার বিষয়টি সংবাদে এলেও আমানতকারীদের মূল টাকা ঝুঁকিতে নেই। তারা তাদের জমা দেওয়া অর্থ অবশ্যই ফেরত পাবেন। পাশাপাশি ২০২৩ সাল পর্যন্ত অর্জিত সব সুদ ও বিনিয়োগ রিটার্ন সম্পূর্ণভাবে পরিশোধ করা হবে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, কেউ যদি দশ বছর আগে আমানত করে থাকেন, তাহলে তিনি ২০২৩ সালের শেষ পর্যন্ত অর্জিত বিনিয়োগ মুনাফাসহ তার পুরো অর্থ ফেরত পাবেন। ব্যাংকগুলোর অনিশ্চিত অবস্থার কারণে ওই সময় প্রকৃত রিটার্ন অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট না হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত করছে।
গভর্নর আরও জানান, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী ব্যাংকগুলো গুরুতর আর্থিক চাপের মধ্যে ছিল। তবু আমানতকারীদের মূল বিনিয়োগ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না।
তিনি স্বীকার করেন, কিছু সময়ের জন্য লোকসান বেড়েছে। তবে এখন একটি স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব কমানো এবং লোকসান বণ্টনের ক্ষেত্রে ইসলামী নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা।
সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এমনভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে, যাতে জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে এবং ইসলামী আর্থিক ব্যবস্থার সব প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সম্পন্ন হয়।

