পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফাইন ফুডস লিমিটেড ও অগ্নি সিস্টেমস লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির অভিযোগে ৪২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। অভিযোগে দেশের শীর্ষ স্থানীয় বাণিজ্যিক সিটি ব্যাংকের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
সিটি ব্যাংক ছাড়াও শেয়ার কারসাজিতে আরও কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকায় তাদেরও জরিমানা করা হয়েছে। ফাইন ফুডস লিমিটেডের শেয়ার কারসাজিতে সিটি ব্যাংককে ৪১ লাখ টাকা এবং অগ্নি সিস্টেমসের শেয়ার কারসাজিতে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেওয়া জরিমানা তালিকায় রয়েছে—এমডি সানোয়ার খান ২৫ লাখ টাকা, মোছা. আসমাউল হুসনা ৯ লাখ টাকা, আনোয়ার পারভেজ খান ১ লাখ টাকা, এসএসএস হোল্ডিংস লিমিটেড ১৭ লাখ টাকা, ফাইন ফুডসের পরিচালক অভিজিৎ দাস ৫৮ লাখ টাকা এবং এমডি সালাউদ্দিন হায়দার ১ লাখ টাকা।
বিএসইসির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে গতকাল মঙ্গলবার কর্মদিবস শেষে জরিমানার অফিস আদেশ জারি হয়নি। বুধবার কার্যদিবস শুরু হতেই আদেশ প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সিটি ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ব্যাংকটি দাবি করে, তারা এখনও জরিমানা সম্পর্কে অবগত নয়। ব্যাংকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা শেয়ার বিজকে বলেন, “আমরা অফিসিয়ালি বিষয়টি জানি না, তাই এখনই মন্তব্য করার সুযোগ নেই।” জানা গেছে, সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করে ফাইন ফুডস ও অগ্নি সিস্টেমসের শেয়ার কারসাজি প্রমাণিত হওয়ায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় সিটি ব্যাংককে জরিমানা করা হয়।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে সিটি ব্যাংকের সম্পৃক্ততা এবং বড় অঙ্কের জরিমানা শেয়ার কারসাজির গভীরতা স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নাম শেয়ার কারসাজির ঘটনায় আসা বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কবার্তা।
ফাইন ফুডস ও অগ্নি সিস্টেমসের শেয়ারদর নিয়ে ২০২৪ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গুঞ্জন ছিল কারসাজি চলছে। শেয়ার বৃদ্ধির মূল কারণ কোম্পানির ব্যবসার উন্নতি নয়, বরং কারসাজি।
ফাইন ফুডসের শেয়ারদর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত কারসাজি করে বাড়ানো হয়। ২০ অক্টোবর শেয়ারদর ছিল ১৫২.৫০ টাকা। ২২ ডিসেম্বর তা বেড়ে দাঁড়ায় ২২৮ টাকা। দুই মাসে শেয়ারের দাম বেড়ে যায় ৭৫.৫০ টাকা বা ৪৯.৫১ শতাংশ। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার কোম্পানির শেয়ারদর ৪৩৬ টাকা ১০ পয়সা, চলতি মাসে ২০ দিনে প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অগ্নি সিস্টেমসের শেয়ারও ২০২৪ সালের জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত কারসাজি করে বাড়ানো হয়েছে। সুবিধামতো সময়ে শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা হাতানো হয়। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানির শেয়ারদর গত ১৫ থেকে ২০ জানুয়ারি ৪.৪৭ শতাংশ বেড়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেও ফাইন ফুডস লিমিটেডের চারজন বিনিয়োগকারী ও দুই প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। ওই সময় মোহাম্মদ শামসুল আলমকে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার, সাজিয়া জেসমিন ৪৯ লাখ, সুলতানা পারভিন ১১ লাখ, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ১ লাখ, এএএ এগ্রো এন্টারপ্রাইজ ৭৫ লাখ এবং আরবিম টেকহো লিমিটেড ২৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ব্যবসায় মন্দা থাকা সত্ত্বেও ফাইন ফুডস কৃত্রিমভাবে আয় ও সম্পদ বাড়িয়ে শেয়ারদর বৃদ্ধি করেছে।
অগ্নি সিস্টেমস ১৯৯৫ সাল থেকে দেশে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করছে। কোম্পানি ২০০৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। প্রধান ব্যবসা ইলেকট্রনিক মেইল, ইন্টারনেট অ্যাক্সেস, ইলেকট্রনিক ডেটা কমিউনিকেশন, কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট। এছাড়া কোম্পানি সব ধরনের কম্পিউটার সফটওয়্যার ও যোগাযোগের জন্য পরামর্শ সেবা প্রদান করে। অবশেষে বিএসইসি তদন্ত সাপেক্ষে শেয়ার কারসাজিতে জড়িতদের চিহ্নিত করে জরিমানা আরোপ করেছে।

