নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। আজ রোববার সকাল ১০টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল।
গতকাল শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে পাঠানো এক খুদেবার্তায় অনুষ্ঠানটি স্থগিতের বিষয়টি জানানো হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বার্তায় এ সিদ্ধান্তকে ‘অনিবার্য কারণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে গঠিত এই নতুন ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থ উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ শীর্ষ ব্যাংকার ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে একীভূত ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের মধ্যে লাভ-লোকসান নিয়ে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঘটনাও ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাজনিত কারণ বিবেচনায় নিয়ে আপাতত অনুষ্ঠানটি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের পর থেকেই আমানতকারীদের মধ্যে মুনাফা না পাওয়া এবং টাকা উত্তোলনে সীমাবদ্ধতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। গত কয়েক দিনে ব্যাংকটি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আমানত উত্তোলন করা হয়েছে। একই সময়ে কিছু নতুন আমানতও জমা পড়েছে।
এর আগে আমানতকারীদের দুই বছরের মুনাফায় ‘হেয়ারকাট’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ব্যাপক সমালোচনার মুখে সে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। পরে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য বার্ষিক ৪ শতাংশ হারে আংশিক মুনাফা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও তাতেও সন্তুষ্ট হননি অনেক আমানতকারী।
বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত স্কিম অনুযায়ী, নতুন এই ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর বড় অংশ হিসেবে ২০ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করেছে সরকার। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা প্রাতিষ্ঠানিক ও অন্যান্য স্থায়ী আমানত থেকে শেয়ারে রূপান্তর করা হবে।
নতুন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় হবে মতিঝিলের সেনাকল্যাণ ভবনে। টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত যেকোনো সময় তোলার সুযোগ থাকবে। এর বেশি আমানতের ক্ষেত্রে প্রতি তিন মাসে এক লাখ টাকা করে সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে উত্তোলনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি স্থায়ী আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ বা ঋণসুবিধা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

