মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিত ৭ শতাংশে না আসায় বাংলাদেশ ব্যাংক এবারও নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধ (জানুয়ারি–জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে না আসা পর্যন্ত সংকোচনমূলক নীতি চালু থাকবে। ব্যাংক প্রতি ছয় মাসে আগাম মুদ্রানীতির ভঙ্গি প্রকাশ করে। এতে মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য অর্জনে মুদ্রা সরবরাহ কেমন রাখা হবে, তার ধারণা দেওয়া হয়। নীতি সুদহার হলো মুদ্রা সরবরাহ বাড়ানো বা কমানোর একটি প্রধান হাতিয়ার।
২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। দীর্ঘদিন দুই অঙ্কের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দুই মাসে তিন দফায় ১৫০ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করে ১০ শতাংশ করা হয়। ওই বছরের নভেম্বরের পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ছিল সর্বোচ্চ ১১.৩৮ শতাংশ। এরপর কমতে কমতে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ৮.১৭ শতাংশে নেমে আসে। নভেম্বর ও ডিসেম্বরের পর তা যথাক্রমে ৮.২৯ এবং ৮.৪৯ শতাংশ হয়েছে।
ডলারের দর দীর্ঘদিন ধরে ১২২ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। ডলার পাওয়া এখন কোনো সমস্যা হচ্ছে না। চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পাঁচটি পণ্যের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং বেশি মুনাফার কারণে কৃষকদের ধানের পরিবর্তে অন্যান্য ফসল চাষে আগ্রহ বাড়া। ফলে চালের উৎপাদন কমেছে।
গত মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭.২ শতাংশ হওয়ার প্রাক্কলন করেছিল। তবে নভেম্বর পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৬.৫৮ শতাংশ। ডিসেম্বরেও ৬.৫ শতাংশের আশপাশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যাংক মনে করছে, নির্বাচনের পর বিনিয়োগ স্থবিরতা কাটিয়ে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা বাড়বে। এ কারণে আগামী জুন নাগাদ বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন ৮ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে।
সরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ডিসেম্বর নাগাদ ২০.৪০ শতাংশ এবং আগামী জুনে ১৮.১০ শতাংশ ধরা হয়েছে। মুদ্রা সরবরাহ ডিসেম্বর নাগাদ ৭.৮০ শতাংশ এবং জুনে ৮.৫০ শতাংশ প্রাক্কলিত। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে প্রায় ৩৮৮ কোটি ডলার কিনে ৪৭.৫ হাজার কোটি টাকা বাজারে দিয়েছে। এর ফলে মুদ্রা সরবরাহ বাড়ার দিকে আছে। নভেম্বর পর্যন্ত এটি দাঁড়িয়েছে ৮.৯২ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নামানোর লক্ষ্যমাত্রা থাকা সত্ত্বেও বাজেটে সাড়ে ৭ শতাংশ ধরা হয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ। সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা থাকায় লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে না বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্বাচনের পর অর্থনীতিতে বাড়তি চাহিদা তৈরি হবে। বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এই ক্ষেত্রে বড় সংকট হবে না বলে মনে করা হচ্ছে।

