সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা তাদের দুই বছরের পুরো মুনাফা চাইছেন। ব্যাংকগুলো আগে স্থায়ী ও মেয়াদি আমানতের বিপরীতে ৯ থেকে ১২ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু লোকসানের কারণে কর্তৃপক্ষ এখন ৪ শতাংশ হারে সীমিত মুনাফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে আমানতকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যাংকের শাখায় গিয়ে পুরো মুনাফা দাবি করেছেন। বিষয়টি ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানানো হয়েছে।
ফাইভ ব্যাংক হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। এই ব্যাংকগুলো একীভূত হয়ে নতুন “সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক” গঠন করছে। এর আগে ১৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছিল, সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা ২০২৪ ও ২০২৫ সালে কোনো মুনাফা পাবেন না। কারণ ওই বছরে ব্যাংকগুলো বড় লোকসান করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শরিয়া ব্যাংক লোকসান করলে আমানতকারীদের সেই বছরের মুনাফা দেওয়া যায় না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নির্দেশনায় উত্তেজনা দেখা দিলে পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন সীমিত মুনাফা দেওয়া হবে। মেয়াদি ও স্কিমভিত্তিক আমানতের ক্ষেত্রে ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত বার্ষিক ৪ শতাংশ হারে মুনাফা প্রদান করা হবে। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ফলে সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ৪ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। তবে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারী এই সুবিধা পাবেন না।
সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শরিয়া কাউন্সিলের পরামর্শ নেয়নি। শরিয়া কাউন্সিল মনে করে, স্বাভাবিক ব্যবসায় যদি ব্যাংক লোকসান হয়, তখন মুনাফা না দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু পরিকল্পিত লুটপাটের কারণে আমানতকারীদের মুনাফা বন্ধ করা ঠিক নয়।

