অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ হ্রাস ও নগদ আদায় বাড়াতে একগুচ্ছ প্রস্তাব জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। সংগঠনটি ঋণ খেলাপিদের জনসম্মুখে লজ্জিত করার পাশাপাশি কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এবিবির চেয়ারম্যান মাশরুর আরেফিন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে পাঠানো চিঠিতে প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, খাতের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং নগদ অর্থ আদায়ের পরিস্থিতি উন্নত করাই প্রধান লক্ষ্য। গত বছরের ১২ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মোহাম্মদ কবির আহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভার দিকনির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এসব প্রস্তাব করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ সর্বকালের সর্বোচ্চ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এটি মোট ১৮ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার ৩৫.৭৩ শতাংশ। জুনে খেলাপি ঋণ ছিল ৬ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা এবং মার্চে ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। মূলত ঋণ শ্রেণিকরণের কঠোর নিয়ম এবং আগে লুকিয়ে রাখা ‘খারাপ’ ঋণগুলো হিসাবের আওতায় আনার কারণে ঋণের পরিমাণ এতটা বেড়েছে।
এবিবি প্রস্তাব করেছে ঋণ খেলাপিদের নাম ও ছবিসহ তালিকা প্রকাশের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হোক। পাশাপাশি তাদের বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে আদালত বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে স্পষ্ট অনুমতি থাকলে ছাড় দেওয়া যেতে পারে।
সংগঠনটি চাইছে, ঋণ খেলাপিরা কোনো ব্যবসায়িক সমিতি বা সংগঠনের নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে। আদালত বা ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া তাদের বিদেশ ভ্রমণ ও ব্যবসায়িক নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এবিবির প্রস্তাবকে জোরালো সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, “নব্বইয়ের দশকে আমরা বিদেশি ব্যাংক এবং সংসদেও খেলাপিদের নাম প্রকাশ করতে দেখেছি। এটি যৌক্তিক এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “ঋণ খেলাপিরা কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে পারে? তারা কি অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে অংশ নিতে পারে বা নীতিনির্ধারণী সেমিনারে যোগ দিতে পারে? রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কর্মসূচি থেকে তাদের বাদ দেওয়া উচিত। এটি আর্থিক সমস্যার পাশাপাশি একটি সামাজিক সমস্যা হিসেবেও মোকাবিলা করতে হবে।”

