চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজার থেকে মোট ৩.৯৩ বিলিয়ন ডলার ক্রয় করেছে। শুক্রবার ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ৫৫ মিলিয়ন ডলার কিনেছে, যার জন্য ১২২ টাকা ৩০ পয়সা হারের ভিত্তিতে পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই সর্বশেষ লেনদেনের মাধ্যমে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ডলার ক্রয়ের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৯৮ মিলিয়ন ডলারে।
কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ কিছুটা কমেছে। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবার মার্কিন ডলার কেনা শুরু করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২০–২১ থেকে ২০২৪–২৫ অর্থবছরের মধ্যে জ্বালানি, সার ও খাদ্য আমদানির জন্য ২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করেছিল। তবে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই ডলারের সরবরাহ বাড়ায় আবার ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
জুলাইয়ের শুরু থেকে মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান শক্তিশালী হয়েছে। এর প্রভাবেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ধারাবাহিকভাবে ডলার কিনছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২.৬৬ বিলিয়ন ডলারে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যালান্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম৬) পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ২৮.০৬ বিলিয়ন ডলার।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ডলার ক্রয়ের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু রিজার্ভ বাড়ায় না, বরং দেশের বাজারে ডলারের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।
রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়ায় বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকও বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ডলার কিনে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারছে।

