দেশের ব্যাংকিং খাতে সুদমুক্ত হিসাবের সুযোগ এখনো সীমিত পরিসরেই রয়েছে। মূলত ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোই নিয়মিতভাবে এ ধরনের হিসাব পরিচালনা করে আসছে। এসব ব্যাংকে ‘আল-ওয়াদিয়াহ’ নামে পরিচিত হিসাবের মাধ্যমে গ্রাহকেরা সুদ ছাড়াই অর্থ জমা রাখার সুযোগ পান। একই সুবিধা দিয়ে থাকে প্রচলিত ধারার কিছু বেসরকারি ব্যাংকের ইসলামী উইন্ডো বা উইং।
তবে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে সুদমুক্ত স্থায়ী আমানত হিসাব এখনো চালু হয়নি। সোনালী, জনতা, রূপালী ও অগ্রণী ব্যাংকে গ্রাহকেরা লিখিতভাবে সুদ গ্রহণ করবেন না—এমন ঘোষণা দিয়ে সঞ্চয়ী হিসাব খুলতে পারেন। এসব হিসাবে জমাকৃত অর্থের বিপরীতে কোনো সুদ প্রদান করা হয় না।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর চলতি হিসাবেও সুদ দেওয়ার বিধান নেই। একই চিত্র দেখা যায় অধিকাংশ বেসরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রেও। তবে ব্যাংকভেদে গ্রাহকদের বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস চার্জ ও মেইনটেনেন্স ফি পরিশোধ করতে হয়, যা হিসাব পরিচালনার একটি নিয়মিত অংশ।
এদিকে বিশেষায়িত ব্যাংকের মধ্যে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে (রাকাব) বর্তমানে সুদমুক্ত সঞ্চয়ী হিসাব চালু রয়েছে। এই হিসাবের মাধ্যমে গ্রাহকেরা সুদ ছাড়াই নিরাপদে অর্থ সংরক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন।
বেসরকারি খাতে সুদমুক্ত ব্যাংকিং সেবার পরিসর তুলনামূলকভাবে কিছুটা বিস্তৃত। দ্য সিটি ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংক তাদের ইসলামী উইন্ডো বা উইংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের সুদমুক্ত হিসাব ও সংশ্লিষ্ট সেবা দিয়ে আসছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, সুদমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থার চাহিদা থাকলেও রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে এর বিস্তার এখনো সীমিত। তবে বেসরকারি ও ইসলামী ব্যাংকগুলোর উদ্যোগে এ খাতে বিকল্প সেবার সুযোগ ধীরে ধীরে বাড়ছে।

