অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন এখনো প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে সম্প্রতি অর্থ উপদেষ্টার এক বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে অন্যায্য ও অসংগত আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল।
এই দুটি ইস্যু সামনে রেখে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে কাউন্সিল। এতে সভাপতিত্ব করেন কাউন্সিলের সভাপতি একেএম মাসুম বিল্লাহ। বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণসহ সংগঠনের একাধিক নেতা। এ সময় নীল, হলুদ ও সবুজ দলের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, অর্থ উপদেষ্টা হিসেবে সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ এবং গভর্নর পদে ড. আহসান এইচ মনসুরের মতো খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ দায়িত্বে থাকার পরও বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ ও ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত হয়নি। এটি গভীর হতাশার বিষয়।
তারা অভিযোগ করেন, ব্যাংক খাতে অনিয়ম দেখা দিলে দায় চাপানো হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর। অথচ প্রতিষ্ঠানটিকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয় না। কাউন্সিলের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জবাবদিহি থাকা উচিত সংসদীয় কমিটির কাছে, সরকারের নির্বাহী শাখার কাছে নয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়াসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ বলেন, সম্প্রতি এক আলোচনায় অর্থ উপদেষ্টা বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে। একই সঙ্গে নিষ্ঠাবান ও পেশাদার কর্মকর্তাদের মনোবলে আঘাত দিয়েছে। এ ধরনের মন্তব্যের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, স্বায়ত্তশাসন হলে সরকার ঋণ নিতে পারবে না—এ ধারণা সঠিক নয়। বরং ঋণ নেওয়ার প্রক্রিয়ায় কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আসবে। সরকার একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার নিতে পারবে। তবে সেই সীমার বাইরে যেতে হলে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও যেসব দাবি উত্থাপন করা হয়, তার মধ্যে রয়েছে—আইন সংশোধনের পাশাপাশি নিয়োগ ও পদোন্নতিতে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসন, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নিয়োগ দেওয়া সব চুক্তিভিত্তিক উপদেষ্টার নিয়োগ বাতিল, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গভর্নরের সক্রিয় সময় ও মনোযোগ নিশ্চিত করা এবং দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের কারণে হয়রানির শিকার কর্মকর্তাদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
কাউন্সিল নেতারা আশা প্রকাশ করেন, এসব দাবির প্রতি দ্রুত নজর দেওয়া না হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকারিতা ও আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

