গ্রাহকের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনায় গৃহঋণের পরিশোধে নতুন ছাড় ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে গৃহঋণের প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদে পুনঃতফসিলে বিশেষ সুবিধা পাবেন ঋণগ্রহীতারা।
নতুন সার্কুলার অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক তার গৃহঋণ খেলাপি হলে প্রথম পুনঃতফসিলে ঋণের অবশিষ্ট মেয়াদের সঙ্গে অতিরিক্ত ৩০ শতাংশ সময় পাবেন। এছাড়া প্রতিটি পুনঃতফসিলে ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। উদাহরণস্বরূপ, একজন গ্রাহকের গৃহঋণের মেয়াদ ২০ বছর এবং তিনি ১০ বছর পর খেলাপি হন। এ ক্ষেত্রে প্রথম মেয়াদে পুনঃতফসিল করলে অবশিষ্ট ১০ বছরের সঙ্গে ৩০ শতাংশ অতিরিক্ত সময় যোগ হবে। অর্থাৎ তিনি মোট ১৩ বছর ৬ মাসের মতো সময় পাবেন। এর আগে এই সময়সীমা সর্বোচ্চ ছয় বছর পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্দেশ্য হলো, পুনঃতফসিলকৃত ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধে উৎসাহিত করা এবং গ্রাহকের পরিশোধ সক্ষমতা বজায় রাখা। সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, দ্বিতীয় মেয়াদে পুনঃতফসিলে গ্রাহক অতিরিক্ত ২০ শতাংশ সময় পাবেন। তৃতীয় ও চতুর্থ মেয়াদে ঋণের অবশিষ্ট মেয়াদই সময় হিসেবে গণ্য হবে। তবে ঋণগ্রহীতার সর্বোচ্চ বয়স ৬৫ বছর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে। শেষ কিস্তি পরিশোধের তারিখ কোনোভাবেই ৬৫ বছর অতিক্রম করতে পারবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “সাধারণত নির্ধারিত আয়ের মানুষই গৃহঋণ নেন। ঋণ খেলাপি হলে পুনঃতফসিলের মেয়াদ সীমিত থাকায় পরিশোধ ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।”
তবে ঋণের ডাউন পেমেন্ট আগের মতোই প্রযোজ্য থাকবে। প্রথম ও দ্বিতীয় বার মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণের জন্য ৭ শতাংশ বা মোট বকেয়া ঋণের ৪ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে। তৃতীয় ও চতুর্থ মেয়াদে প্রথম দুই বারের সঙ্গে অতিরিক্ত এক বছর যুক্ত হবে।

