বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬ অর্থবছরের জানুয়ারি–জুন মাসের জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। এতে নীতি সুদহার বা পলিসি রেট ১০ শতাংশ রাখা হয়েছে, যা পূর্বের মতোই অপরিবর্তিত।
নীতি সুদহার, যা রেপো রেট নামেও পরিচিত, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তফসিলি ব্যাংকগুলোকে স্বল্পকালীন ঋণ প্রদানের মূল হার। রেপো অর্থ ‘পুনঃক্রয় চুক্তি’ এবং এটি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতির অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
আজ সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, নীতি সুদহার অপরিবর্তিত থাকলেও স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) বা ব্যাংকের কাছে টাকা জমা রাখার সুদ ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৭.৫ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে টাকা রেখে কম লাভ পাবেন, ফলে তারা সেই অর্থ ব্যবসা ও শিল্পখাতে ঋণ দিতে আগ্রহী হবে।
গত তিন মাসে দেশের মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। জানুয়ারিতে এটি ৮.৫৮ শতাংশ পৌঁছেছে। চলতি বছরের গত ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি ৮.৬৬ শতাংশ, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ৭ শতাংশের চেয়ে বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমার লক্ষণ দেখা গেলেও চাপ পুরোপুরি কমেনি। বিশেষত, বিদেশি পণ্যের দাম বৃদ্ধি রোধে ডলারের বিপরীতে টাকার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি। অতিদ্রুত সুদ কমালে টাকার ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
সাথে আরো কিছু ঝুঁকি আছে যা মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে—আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, রমজান মাস, এবং নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো চালু হলে মানুষের খরচ বৃদ্ধি। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ মুদ্রানীতি বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ১১ বার সুদহার বৃদ্ধি করে ১০ শতাংশে নিয়ে আসে। এরপর থেকে অতিরিক্ত চাহিদি নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমাতে এই হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

