মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নামাতে এখনো চ্যালেঞ্জ রয়ে যাওয়ায় নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নেমে না আসা পর্যন্ত চলমান সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির অবস্থান বজায় থাকবে।
আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে চলতি ২০২৪–২৫ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি–জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। ঘোষিত নীতিতে নীতি সুদহার আগের মতোই ১০ শতাংশে রাখা হয়েছে, যা ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে অপরিবর্তিত রয়েছে।
ঋণ প্রবৃদ্ধি ও মুদ্রা সরবরাহের লক্ষ্য:
নতুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সামান্য বাড়ানো হয়েছে। জুন নাগাদ এ খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে সাড়ে ৮ শতাংশ, যেখানে আগের মুদ্রানীতিতে এটি ছিল ৮ শতাংশ। তবে বাস্তবে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। অন্যদিকে সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ দশমিক ৬০ শতাংশ। একই সঙ্গে বাজারে মোট মুদ্রা সরবরাহ বা ব্রড মানি বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ১১ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, বাজার থেকে ৪৩০ কোটি মার্কিন ডলার কেনার বিপরীতে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বাজারে ছাড়তে হয়েছে। এর ফলে মুদ্রা সরবরাহ কিছুটা বাড়তির দিকে রয়েছে।
সংস্কার না হওয়ায় আক্ষেপ গভর্নরের:
মুদ্রানীতি ঘোষণার অনুষ্ঠানে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে তিনি পূর্ণ পেশাদার স্বাধীনতা ভোগ করেছেন এবং কোনো ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়নি। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইন সংশোধন না হওয়ায় তার আক্ষেপ রয়ে গেছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ব্যাংক কোম্পানি আইন এবং অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তী সরকার এসব সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ব্যর্থ হলে তিনি দায়িত্বে থাকবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, সময় এলে সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি যোগ করেন, সরকার যেই আসুক না কেন, দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো জরুরি।
মূল্যস্ফীতি ও রিজার্ভের হালচিত্র:
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৪ সালের আগস্টের পর তিন দফায় নীতি সুদহার বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করে। গত নভেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশে উঠলেও পরবর্তীতে তা কিছুটা কমে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে নেমে এসেছে।
অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা বাড়বে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রয়েছে এবং সংস্থাটির সব শর্ত পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।
একনজরে নতুন মুদ্রানীতি:
- নীতি সুদহার: ১০ শতাংশ
- মূল্যস্ফীতি লক্ষ্য: ৭ শতাংশে না নামা পর্যন্ত সংকোচনমূলক নীতি
- বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা: সাড়ে ৮ শতাংশ
- মুদ্রা সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা: জুন নাগাদ সাড়ে ১১ শতাংশ

