বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতি ধরে রাখতে ফের ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহ বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গতকাল (৯ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নিলামের মাধ্যমে মোট ২০৯ মিলিয়ন ডলার কিনেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, প্রতি ডলারের দর নির্ধারণ করা হয় ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। এই ক্রয়ের মধ্য দিয়ে শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনার পরিমাণ দাঁড়াল ৭৯৫ মিলিয়ন ডলার, যা সাড়ে ৭৯ কোটি ডলারের সমান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের জানান, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে মোট ৪ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি কেনা হয়েছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি রপ্তানি আয়ও নিয়মিত আসছে। ফলে বাজারে ডলারের সরবরাহ তুলনামূলক বেশি থাকায় ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধতন কর্মকর্তা জানান, রপ্তানিকারকদের সহায়তা দেওয়া এবং প্রবাসী আয়ের গতি ধরে রাখতেই ডলার কেনা হচ্ছে। এতে একদিকে রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে ডলারের দর অতিরিক্ত কমে যাওয়ার ঝুঁকিও কমছে।
রেমিট্যান্সের পরিসংখ্যানেও ইতিবাচক চিত্র দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৩১৭ কোটি ডলার। এটি দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ মাসিক রেমিট্যান্স। আগের বছর একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ২১৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৫ দশমিক ৪১ শতাংশ। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে দেশে। একই বছরের ডিসেম্বর মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩২২ কোটি ডলার প্রবাসী আয় রেকর্ড হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই মাস থেকে প্রথমবারের মতো নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু হয়। ডলার কেনার বিপরীতে সমপরিমাণ টাকা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ায় বাজারে তারল্যও বাড়ছে।
সামগ্রিকভাবে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক ধারা কাজে লাগিয়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতেই বাংলাদেশ ব্যাংক এই নীতিগত অবস্থান অব্যাহত রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

