বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশের ব্যাংকে আমানতের মোট পরিমাণ ১৯ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকার বেশি পৌঁছেছে। তুলনায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি ছিল ১৭ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের মধ্যে আমানতের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে ১১ দশমিক ১০ শতাংশ, যা গত ৫০ মাসে সর্বোচ্চ।
এই প্রবৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং ব্যাংক আমানতের সুদের হারের বৃদ্ধি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এক বছর আগে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স ছিল ২ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, “বেকারত্বের হার বেড়ে যাওয়া এবং মানুষের আয়ের বৃদ্ধির ধীর গতির মধ্যেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ব্যাংক আমানতের পরিমাণ বাড়িয়েছে।”
ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হোসেন বলেন, “জনসাধারণ ব্যাংকে বিনিয়োগকে নিরাপদ মনে করছে। রেমিট্যান্স ব্যাংকিং চ্যানেলে আসার পর তা টাকায় রূপান্তরিত হয়, ফলে আমানতও বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও আমানতের সুদের হার আগের চেয়ে বেশি হওয়ায় আমানত রাখা আরও আকর্ষণীয় হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তা জানান, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৯-৬ শতাংশের সুদের নীতি থেকে সরে আসে। এর পর ব্যাংকগুলোর আমানত ও ঋণের সুদের হার বাড়তে থাকে। এর ফলে আগের তুলনায় ব্যাংকে আমানত রাখা আরও লাভজনক হয়েছে।
একটি বেসরকারি ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধান বলছেন, “বর্তমানে ব্যাংকগুলো ৯ থেকে সাড়ে ৯ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দিচ্ছে, যা সাধারণ মূল্যস্ফীতির হারকে ছাড়িয়ে গেছে। একই সময়ে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদ কম হওয়ায় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয়ই ব্যাংকে আমানত রাখতে উৎসাহিত হচ্ছে।
বাংলাদেশে ব্যাংক আমানতের প্রবৃদ্ধির ইতিহাস দেখলে বোঝা যায়, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর পর ধীরে ধীরে কমে টানা ১৭ মাস এক অংকের হারেই থেমে ছিল। ২০২৫ সালের আগস্টে তা আবার দুই অংকের ঘরে উঠেছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ ও সুদের হার বৃদ্ধিই এই নতুন প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি।

