বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন নীতিমালার মাধ্যমে ‘স্টুডেন্ট ব্যাংকিং’ পরিষেবাকে আরও ব্যবহার বান্ধব করেছে। এতে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাংকিং সুবিধা সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং বয়সসীমা বাড়ানো হয়েছে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, অনূর্ধ্ব ২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা স্টুডেন্ট ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। এর আগে কেবল অনূর্ধ্ব ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরাই এ ধরনের অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ পেতেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্ট গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করে সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী পরিচালককে পাঠিয়েছে। এ ছাড়া এতদিন ‘স্কুল ব্যাংকিং’ নামে পরিচিত এই সেবাটি এখন থেকে ‘স্টুডেন্ট ব্যাংকিং’ নামে চলবে।
নতুন নিয়মে স্টুডেন্ট ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টধারীরা এবার ক্রেডিট কার্ডও নিতে পারবেন। আগে শুধুমাত্র ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের সুযোগ ছিল। এটিএম বুথ থেকে মাসিক নগদ উত্তোলনের সীমা বেড়ে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অভিভাবকের আবেদন থাকলে এই সীমা ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। আগের নীতিমালায় মাসে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা উত্তোলনের সুযোগ ছিল।
অ্যাকাউন্টে মাসিক সর্বোচ্চ জমার পরিমাণ ২৫ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ স্থিতি ৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিদেশে পড়াশোনার জন্য আলাদা স্টুডেন্ট ফাইল বা অ্যাকাউন্ট না খোলার শর্তে এই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবেন। বৈধ রেমিট্যান্সও সরাসরি এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে গ্রহণ করা যাবে।
উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনার জন্যও অভিভাবকের গ্যারান্টিতে ঋণ নেওয়া সম্ভব। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, “শিক্ষার্থীদের দেওয়া ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুদের হার ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।”
এই পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের আর্থিক স্বনির্ভরতা বাড়াবে এবং শিক্ষার্থীদের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সরাসরি সংযুক্ত করবে। পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা শিক্ষার্থীদের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও জরুরি প্রয়োজন মেটাতে আরও কার্যকর হবে।

