দেশের এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় ঋণ বিতরণ গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ খাতে ঋণ বিতরণ হয়েছে ৩৫ হাজার ২৩ কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালের ২৪ হাজার ২৮ কোটি টাকা থেকে ৪৫.৪৬ শতাংশ বাড়েছে। একই সময়ে আমানতও প্রায় সাড়ে ১৮ শতাংশ বেড়ে ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সহজ প্রক্রিয়ায় ঋণ গ্রহণ, কম সুদহার এবং সুবিধাজনক সঞ্চয় ব্যবস্থার কারণে এ সেবা জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। বিশেষ করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্রের মাধ্যমে গ্রাহকদের ব্যাংকের শাখায় না গিয়ে বাড়ির কাছেই সেবা পাওয়ার সুযোগ থাকায় ঋণ বিতরণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এজেন্ট ব্যাংকিং হলো শাখা না খোলে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার একটি ব্যবস্থা। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করে। প্রথমে শুধু পল্লি এলাকায় এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করা হলেও পরবর্তী বছর নীতিমালা সংশোধন করে পৌর ও শহরাঞ্চলেও সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়। বর্তমানে ৩১টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
গ্রাহকরা এখন বাসাবাড়ির নিচে বা স্থানীয় হাঁটবাজারের এজেন্ট বুথে ব্যাংকের প্রায় সব ধরনের সেবা পেতে পারেন। বায়োমেট্রিক বা ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে হিসাব পরিচালনা, অ্যাকাউন্ট খোলা, আমানত জমা ও উত্তোলন, মোবাইল রিচার্জ, দেশীয় টাকা স্থানান্তর, রেমিট্যান্স উত্তোলন, ইউটিলিটি বিল এবং যানবাহনের লাইসেন্স ও ফিটনেস ফি প্রদান, বিভিন্ন ধরনের ঋণ বিতরণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা—all এসব সুবিধা এখানে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও, গ্রাহকরা ডেবিট কার্ড, চেকবই ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধা নিতে পারেন, যার ফলে এ সেবার জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ৫৮ লাখ ৩২ হাজার ৯৮১ জন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত গ্রাহক ছিল দুই কোটি ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ২৩০। গত এক বছরে গ্রাহক বেড়েছে ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫১ জন। এর মধ্যে নারী গ্রাহকের সংখ্যা এক কোটি ২৮ লাখ সাত হাজার ৩৩১।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ বিতরণে শীর্ষে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, যা মোট ঋণের ৭২.১২ শতাংশ বিতরণ করেছে। এরপর সিটি ব্যাংক ১১ শতাংশ, ব্যাংক এশিয়া ৫ শতাংশ, ইসলামী ব্যাংক ৪.৫ শতাংশ এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ৩.২৭ শতাংশ। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বিতরণেও বড় বৃদ্ধি হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে রেমিট্যান্স বিতরণ বেড়েছে প্রায় ২৬,৮৪১ কোটি টাকা বা ১৫.৪৮ শতাংশ।
যদিও গ্রাহক, ঋণ ও আমানত বৃদ্ধি পাচ্ছে, গত এক বছরে এজেন্ট ও আউটলেটের সংখ্যা কমেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এজেন্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫,৩২৭ জন, যা ২০২৪ সালে ছিল ১৬,০২১। অর্থাৎ এক বছরে ৬৯৪ এজেন্ট কমেছে। এছাড়াও আউটলেটের সংখ্যা কমে ৭৪৭টি হয়েছে। মোট এজেন্ট ও আউটলেটের প্রায় ৮৪–৮৫ শতাংশ গ্রামীণ অঞ্চলে অবস্থিত। এর ফলে গ্রাহকদের সুবিধা অক্ষুণ্ণ থাকলেও আউটলেট ও এজেন্টের ঘনত্ব কমে যাওয়ায় কিছু অঞ্চলে সেবা প্রভাবিত হতে পারে।

