নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের ঠিক একদিন আগে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর আজ (সোমবার) জরুরি পর্ষদ সভা আহ্বান করেছেন বিতর্কিত একটি ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার লক্ষ্যে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই তড়িঘড়ি পদক্ষেপ ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
এই প্রস্তাবের প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল পর্ষদ সভা স্থগিতের দাবি জানিয়েছে। গতকাল রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কাউন্সিলের নেতারা গভর্নরকে চিঠি পাঠিয়েছেন।
তদন্ত ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নতুন সরকারের মন্ত্রীরা আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। সরকারের গঠন প্রক্রিয়া চলাকালীন এই লাইসেন্স দেওয়ার তৎপরতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কাছে ‘স্বার্থের সংঘাত’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারা অভিযোগ করছেন, গভর্নর পূর্বে একই গোষ্ঠীর একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই নতুন লাইসেন্স প্রদানের এই উদ্যোগকে নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট হিসেবে মনে করছেন তারা।
কর্মকর্তারা বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত ইতিমধ্যেই তারল্য সংকট ও খেলাপি ঋণের চাপের মধ্যে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন লাইসেন্স প্রদান ব্যাংকিং ঝুঁকি আরও বাড়াবে এবং এটি বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ এর ৫(ক) অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজর মূলত দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতায় থাকা উচিত।
কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিয়মনীতি ও আইন সংশোধনের মাধ্যমে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর ঋণ বা অনিয়মকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন ও জনগণের আমানতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাই তারা সাংবাদিকদের কাছে জানিয়েছেন, দেশের আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় জরুরি পর্ষদ সভা স্থগিতের দাবিতে আজ সংবাদ সম্মেলন করা হবে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একটি নতুন সরকার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়ায় থাকা অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘমেয়াদি ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রশাসনিক শিষ্টাচারের লঙ্ঘন। নতুন সরকারের নিজস্ব অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও সংস্কার এজেন্ডা থাকতে পারে। তাই তড়িঘড়ি লাইসেন্স প্রদানের সিদ্ধান্ত হঠকারি ও অগণতান্ত্রিক হিসেবে গণ্য হবে।
কাউন্সিল হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন কোনো গোষ্ঠীর ফাইল অনুমোদন করা হয়, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মর্যাদা এবং দেশের অর্থনীতির স্বার্থ রক্ষায় সাধারণ সদস্যদের মতামলের ভিত্তিতে কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবে তারা।

