চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম ১৬ দিনে দেশের প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ১৮০ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। প্রবাসী আয়ের এই প্রবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভেও।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা ব্যাংকগুলো থেকে ডলার ক্রয় করেছে, যার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১–১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রবাসী আয় ছিল ১৪৯ কোটি ডলার। চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ১৮০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এর মধ্যে শুধু ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রবাসী আয় এসেছে ১৫ কোটি ২০ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, মোট রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার হয়েছে, যা আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী ২৯ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারের সমান।
নির্বাচন সামনে রেখে চলতি মাসে প্রতিদিন গড়ে ১১ কোটি ২৫ লাখ ডলার প্রবাসী আয় আসছে। গত দুই মাস ধরে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসী আয় এসেছে ৩১৭ কোটি ডলার, আর ডিসেম্বর মাসে তা ছিল ৩২২ কোটি ডলার। এর আগে পাঁচ মাসে দেশে তিন বিলিয়ন ডলারের কম রেমিট্যান্স এসেছে।
একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তার মতে, সাধারণত দুই ঈদের আগে প্রবাসী আয় বেশি আসে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনের কারণে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের যেসব দেশে বাংলাদেশি বসবাসের সংখ্যা বেশি, সেসব দেশ থেকে প্রধানত প্রবাসী আয় আসে। এছাড়া কিছু প্রার্থীর জন্য বিদেশ থেকে তহবিল সংগ্রহ করা হয়, যা প্রবাসী আয়ের নামে দেশে প্রবাহিত হয়।

