বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই কর্মকর্তাদের জন্য স্পষ্ট কর্মপন্থা ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছেন। তার মূল বার্তা ছিল, কথা কম বলতে হবে, কাজ বেশি করতে হবে।
তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো ধরনের বাহ্যিক চাপ বা প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করবে না।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে একটি পুরোনো গাড়িতে করে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান ভবনে পৌঁছান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরা ও সংবাদকর্মীরা। তারা তাকে ঘিরে ধরলেও তিনি দীর্ঘ কোনো বক্তব্য দেননি। সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, এসেছি, আগে কাজ শুরু করি, পরে কথা বলা যাবে।
দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই গভর্নর ডেপুটি গভর্নর ও নির্বাহী পরিচালকদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠকের শুরুতে তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক সংস্থার মর্যাদা বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান। তাই গণমাধ্যমে যত কম কথা বলা যায়, ততই ভালো। কারণ এই প্রতিষ্ঠানের যেকোনো বক্তব্য, তা ইতিবাচক হোক বা নেতিবাচক, সমাজে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে গভর্নর বলেন, বাইরে থেকে কোনো চাপ এলে তা তাকে জানাতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কারও চাপের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা এবং কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন।
পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গভর্নরের নির্দেশনাগুলো গণমাধ্যমকে জানান। তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, সুদের হার কমানো এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা চালু করার উদ্যোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গভর্নরের নির্ধারিত অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো—
১. সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল রেখে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হবে।
২. এই প্রবৃদ্ধি হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, যাতে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
৩. বন্ধ কলকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান চালু করে অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে হবে।
৪. বিনিয়োগ বাড়াতে উচ্চ সুদের হার পর্যালোচনা করা হবে।
৫. পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
৬. প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
৭. সব সিদ্ধান্ত হবে বস্তুনিষ্ঠ ও উদ্দেশ্যভিত্তিক।
৮. ব্যাংক খাতে নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থাপনা চালু করতে হবে।
৯. কাজের গতি বাড়াতে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ জোরদার করতে হবে।
১০. সরকারের অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে।
১১. সর্বোপরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।
প্রথম দিনে গভর্নর গণমাধ্যমের সঙ্গে দীর্ঘ কোনো আলোচনা করেননি। দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি সচিবালয়ের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ত্যাগ করেন।

