ব্যাংকের শাখা, উপশাখা ও অন্যান্য ব্যবসাকেন্দ্রের জন্য ভবন ভাড়ার ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
অঞ্চলভেদে সর্বোচ্চ ভাড়ার হার নির্ধারণ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্ধারিত সীমার মধ্যে ভাড়া নির্ধারণ করা হলে এখন আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে না। তবে নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলে অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিতে হবে।
এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দেশের সব ব্যাংকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো স্থাপনার মালিক যদি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালক বা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হন, তাহলে ভাড়ার পরিমাণ যতই হোক না কেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হবে।
নির্দেশনায় বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য আলাদা ভাড়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতি বর্গফুটের সর্বোচ্চ ভাড়া ধরা হয়েছে ১০৪ টাকা। ঢাকার ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভায় এই হার ২৮ টাকা এবং পল্লি এলাকায় ২৪ টাকা।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতি বর্গফুটের সর্বোচ্চ ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬১ টাকা। সেখানে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভায় ভাড়া সর্বোচ্চ ২৭ টাকা এবং পল্লি এলাকায় ২০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
এভাবে দেশের আটটি বিভাগীয় অঞ্চলে সিটি করপোরেশন, ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা এবং পল্লি—এই তিন শ্রেণিতে স্থাপনা ভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ভবনের অবস্থান, ফ্লোরের অবস্থান এবং স্থাপনার মানের ভিন্নতা বিবেচনায় নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার মধ্যেই যৌক্তিকভাবে ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকের ব্যবসাকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে ভাড়া চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরের প্রবণতাও বেড়েছে। এসব কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ভাড়া বা ইজারা অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করতে নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

