দেশের ব্যাংক খাত থেকে বিতরণ করা ঋণের বড় অংশ এখনো ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে কেন্দ্রীভূত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দুই বিভাগ মিলেই দেশের মোট ব্যাংক ঋণের প্রায় ৮৭ শতাংশের অংশীদার।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ঢাকা বিভাগে ব্যাংক খাত থেকে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট ব্যাংক ঋণের ৬৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের ঋণ বণ্টনের সবচেয়ে বড় অংশই রাজধানীকেন্দ্রিক এই বিভাগে রয়েছে।
একই সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ একত্রে দেশের ব্যাংক ঋণের প্রায় ৮৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
অন্যদিকে দেশের বাকি বিভাগগুলোতে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ডিসেম্বর শেষে খুলনা বিভাগে ঋণের পরিমাণ ছিল ৬৬ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ। একই সময়ে রাজশাহী বিভাগে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩ দশমিক ৭২ শতাংশ।
এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ঋণের পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ৬০২ কোটি টাকা, যা মোট ব্যাংক ঋণের ১ দশমিক ১০ শতাংশ। সিলেট বিভাগে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ২৭ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১ দশমিক ০৭ শতাংশ।
অপরদিকে রংপুর বিভাগে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আর ময়মনসিংহ বিভাগে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা, যা মোট ব্যাংক ঋণের মাত্র ১ দশমিক ২৮ শতাংশ।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংক ঋণের বড় অংশ ঢাকা ও চট্টগ্রামে কেন্দ্রীভূত থাকায় আর্থিক অনিয়ম ও ঋণ জালিয়াতির বেশির ভাগ ঘটনাও এসব এলাকাতেই বেশি ঘটে। পাশাপাশি অধিকাংশ ব্যাংক শাখা ও ব্যবসাকেন্দ্রও মূলত এই দুই বিভাগকে কেন্দ্র করেই সম্প্রসারিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্যান্য বিভাগে ঋণ কার্যক্রম বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন সময় ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে কম ঋণ পাওয়া অঞ্চলগুলোতে কীভাবে ঋণের প্রবাহ বাড়ানো যায়, সে লক্ষ্যেও একটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

