বাংলাদেশে গত পাঁচ বছরে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে দেশের সব ধরনের কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন ছিল ২০ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা। তবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৪৪ কোটি টাকায়, যা প্রায় ১৪৩ শতাংশ বৃদ্ধিকে নির্দেশ করে।
প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ডের ব্যবহার ও বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের প্রবণতা সবিস্তারে তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে দেশে ৬১টি ব্যাংক এবং ১টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফসি) কার্ড সেবা দিচ্ছে। এর মধ্যে ৫৫টি ব্যাংক ডেবিট কার্ড সেবা সরবরাহ করছে।
সংখ্যার দিক থেকে দেশজুড়ে কার্ডের ব্যবহারও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে দেশে মোট কার্ডের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৪০ লাখের বেশি। পাঁচ বছরের মধ্যে তা বেড়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৫ কোটি ১৮ লাখের বেশি হয়েছে, যা ১১৫ শতাংশ বৃদ্ধির সমতুল্য। আরও আগে, ২০২০ সালের আগস্টে দেশের সব ধরনের কার্ডের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ২২ লাখ, যা ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বেড়ে ৫ কোটি ৬৯ লাখে পৌঁছেছে।
ব্যবহারের দিক থেকেও ক্রেডিট কার্ডের লেনদেন বৃদ্ধি লক্ষ্যনীয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে অভ্যন্তরীণ বাজারে গ্রাহকরা বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড দিয়ে মোট ৩ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা খরচ করেছেন। এর মধ্যে ডিপার্টমেন্ট স্টোরে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা।
বিদেশি নাগরিকদের কার্ড ব্যবহারও চোখে পড়ার মতো। গত বছরের জুলাই মাসে বাংলাদেশে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা, যাদের লেনদেন দেশজুড়ে এক-চতুর্থাংশের বেশি। এরপরের অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য, ভারত, মোজাম্বিক, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও সৌদি আরবের নাগরিকরা।
বাংলাদেশে কার্ড ব্যবহারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশজুড়ে ডিজিটাল লেনদেনের বিস্তার এবং নগদহীন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

