প্রায় দুই যুগ ধরে এক্সিম ব্যাংকের গোডাউন ইন্সপেক্টর ও গার্ড পদে কর্মরত ৭০ জন কর্মী চাকরি স্থায়ী করার আশ্বাস পেয়েও এখনও অস্থায়ী অবস্থায় রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে রদবদল হলেও প্রত্যেকেই আশ্বাস দিয়েছেন, শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা এসব কর্মীর চাকরি স্থায়ী করা হবে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে বিষয়টি আজও ঝুলে আছে।
কর্মীরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান গভর্নর এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান বরাবর একাধিকবার আবেদন করেছেন। তবু দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ীকরণ হয়নি। পাঁচ ব্যাংক একীভূত হওয়ার পর থেকে চাকরি হারানোর শঙ্কা আরও বেড়ে গেছে। তারা দাবি করেন, ‘প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের স্থায়ী করা হচ্ছে না। ক্ষেত্রবিশেষে আমরা স্থায়ী কর্মীদের চাইতেও বেশি কাজ করছি।’ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, আগামী ১২ মার্চ ব্যাংকের বোর্ডসভায় বিষয়টি উত্থাপন হতে পারে।
জানা গেছে, ৭০ জনের মধ্যে কেউ কেউ ১ থেকে ২৫ বছর চাকরি করে এসেছে, তবু স্থায়ী করা হয়নি। আগের চেয়ারম্যানরা একাধিকবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়ন হয়নি, যার ফলে কর্মীরা চাকরি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য তারা সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, বর্তমান গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে আবেদন করেছেন। কর্মীরা জানান, ব্যাংকের বর্তমান সমস্যা ও একীভূতকরণের প্রক্রিয়ার কারণে চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। বিশেষ করে এক্সিম ব্যাংক মার্জ হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক হওয়ায় গ্রাহক সংকট দেখা দিয়েছে, কারণ অনেক বড় প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসা অন্যত্র স্থানান্তর করেছে।
তারা আরও জানান, অন্য অস্থায়ী কর্মচারীদের স্থায়ী করা হলেও গোডাউন ইন্সপেক্টর ও গার্ডদের স্থায়ী করা হয়নি। বিভিন্ন শাখার ব্যবস্থাপকও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত সুপারিশ দিয়েছেন। তবে প্রশাসক এখনও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।
এক্সিম ব্যাংকের প্রশাসক মো. শওকাতুল আলম বলেন, ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেবে, তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে তারা স্থায়ী করবে বলে আশা করছি।’ ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর তিনি এক্সিম ব্যাংকের প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তার জানা নেই।
গত ১ ডিসেম্বর আর্থিক সংকট ও উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে পাঁচটি ব্যাংক—ফার্স্ট সিকিউরিটি, সোশ্যাল ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম—মার্জ করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে ২০ হাজার কোটি সরকার দিয়েছেন।
ফেব্রুয়ারি মাসে এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিরূপ আচরণ করলেও কোনও কর্মকর্তা ছাঁটাই বা হয়রানি করা হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবুও ৩০ কর্মীকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়, যা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন ড. আহসান এইচ মনসুর। দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্বল ব্যাংকগুলো একীভূত করার উদ্যোগ নেন। এই সময় এক্সিম ব্যাংক ছিল সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে। অন্যান্য চারটি ব্যাংক চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
এই চার ব্যাংক মার্জ করলে কোনো লাভ হতো না, তাই এক্সিম ব্যাংককে কেন্দ্র করে একীভূতকরণ করা হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর অসন্তোষ ও কর্মকর্তাদের প্রতিবাদের মধ্যে পদত্যাগ করেন। এ অবস্থায় গোডাউন ইন্সপেক্টর ও গার্ডদের চাকরি স্থায়ী না হওয়া এবং ওএসডি কার্যক্রমের কারণে ব্যাংকের অস্থায়ী কর্মকর্তাদের চাকরি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা আরও প্রকট হয়েছে।

