বাংলাদেশের ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নারী কর্মীর সংখ্যা গত ছয় মাসে কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত নারী-পুরুষ সমতা বিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের জুন শেষে ব্যাংক খাতে নারী কর্মীর সংখ্যা ছিল ৩৫ হাজার ৭৮২ জন। তবে বছরের শেষ নাগাদ এই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৩৫ হাজার ৬১ জনে। অর্থাৎ ছয় মাসে ব্যাংক খাতে নারী কর্মী কমেছে ৭২১ জন। একই সময়ে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও নারী কর্মীর সংখ্যা কমেছে। জুন শেষে এসব প্রতিষ্ঠানে নারী কর্মী ছিলেন ১ হাজার ৬৮ জন। কিন্তু ডিসেম্বর শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯ জনে। ফলে এই খাতে নারী কর্মী কমেছে ৪৯ জন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে ৬১টি ব্যাংক ও ৩৫টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে মোট কর্মীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১৮ হাজার ৪৮৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ কর্মী ১ লাখ ৮২ হাজার ৪০৭ জন এবং নারী কর্মী ৩৬ হাজার ৮০ জন। সেই হিসেবে পুরো খাতে মোট কর্মীর প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ নারী।
প্রতিবেদন বলছে, ব্যাংক ও আর্থিক খাতে কর্মরত নারীদের বড় অংশই বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে কাজ করেন। গত বছরের শেষে এসব ব্যাংকে নারী কর্মীর সংখ্যা ছিল ২২ হাজার ৯৮৩ জন। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকে ছিলেন ৯ হাজার ১৪৭ জন নারী কর্মী। বিশেষায়িত ব্যাংকে ১ হাজার ৯৪৭ জন এবং বিদেশি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন ৯৮৪ জন নারী। তবে পদভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক খাতে উচ্চপর্যায়ের পদে নারীর উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। এই স্তরে নারী কর্মীর হার মাত্র ১০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণের শীর্ষ পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ এখনো সীমিত।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংকটে থাকা কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের একীভূতকরণ ও বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ফলে কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাই হয়েছে এবং কেউ কেউ স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়েছেন। এই পরিবর্তনের প্রভাব নারী কর্মীদের ওপরও পড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংক ও আর্থিক খাতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে নীতিগত সহায়তা জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও নেতৃত্বের সুযোগ বাড়ানো হলে এই খাতে নারীর উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হতে পারে।

