বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতা, মার্কিন শুল্কনীতি এবং চীন ও ভারতের আগ্রাসী রফতানি কৌশলের প্রভাবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি প্রথম আট মাসে নিম্নমুখী। তবে কিছু অপ্রচলিত বাজারে সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেলেও অধিকাংশ দেশের রফতানি কমেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের প্রধান রফতানি বাজারগুলো—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে রফতানি কমেছে। মোট রফতানির প্রায় ৮৫ শতাংশই এসব দেশে যাচ্ছে।
ইইউভুক্ত দেশগুলোয় চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে তৈরি পোশাক রফতানি কমেছে ৫.৪৯ শতাংশ। এ সময়ে রফতানি হয়েছে ১ হাজার ২৬৮ কোটি ৬৩ লাখ ডলারের পোশাক; যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ১ হাজার ৩৪২ কোটি ৩৮ লাখ ডলার।
একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি সামান্য কমেছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশটিতে রফতানি হয়েছে প্রায় ৫০৩ কোটি ডলার, যেখানে আগের বছর ছিল ৫০৬ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। এরফলে কমেছে ০.৭৪ শতাংশ। তবে কানাডা ও যুক্তরাজ্যে রফতানি বেড়েছে যথাক্রমে ৩.০৮ ও ১.২২ শতাংশ।
অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, রাশিয়া, তুরস্ক, মেক্সিকো ও কোরিয়ার মতো দেশগুলো রয়েছে। জাপানে রফতানি কমেছে ৫.৩৮ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ায় ১২.৬৮ শতাংশ এবং ভারতে ৯.৭৪ শতাংশ। সবচেয়ে বড় পতন রাশিয়ায়—২৯.১৭ শতাংশ। তুরস্কে কমেছে ২৪.৩৮, মেক্সিকোতে ১৬.৬৮ এবং কোরিয়াতে ১২.৭৬ শতাংশ।
অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে চীনে রফতানি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, প্রায় ২১.৫১ শতাংশ। সৌদি আরবে ২১.৪৬, মালয়েশিয়ায় ১৬.৪, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৫.৬৮, ব্রাজিলে ১১.৫ এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় ৯.৫৯ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। এসব দেশে রফতানি হয়েছে ৮ কোটি থেকে ১৯ কোটি ডলারের মধ্যে।
সবমিলিয়ে অপ্রচলিত বাজারের মোট রফতানি কমেছে ৬.৩৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে ৪২৪ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে; যেখানে আগের বছর তা ছিল ৪৫২ কোটি ৭৮ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান মনে করেন, বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা এবং দেশে ব্যাবসার বেহাল অবস্থা মূল কারণ।
তিনি বলেন, “প্রচলিত ও অপ্রচলিত সব বাজারেই রফতানি কমেছে। যুদ্ধ-বিগ্রহ, শুল্ক বৃদ্ধি এবং উচ্চ সুদের কারণে রফতানি থেমে গেছে। দেশের অনেক কারখানা বন্ধ থাকায় অপ্রচলিত বাজারেও প্রভাব পড়েছে।”

