বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অস্ত্রের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। এই বাস্তবতায় বৈশ্বিক অস্ত্রবাণিজ্য এখন অল্প কয়েকটি দেশের হাতে কেন্দ্রীভূত। সর্বশেষ তথ্য বলছে, বিশ্বের মোট অস্ত্র রপ্তানির প্রায় পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করছে মাত্র ১০টি দেশ।
বৈশ্বিক অস্ত্র রপ্তানির চিত্র
স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (এসআইপিআরআই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সময়কালে বিশ্বের মোট অস্ত্র রপ্তানির ৮৮ শতাংশ এসেছে শীর্ষ ১০টি দেশ থেকে। বাকি সব দেশের সম্মিলিত অংশ মাত্র ১২ শতাংশ।
এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একাই বৈশ্বিক অস্ত্র রপ্তানির ৪২ শতাংশ দখল করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ফ্রান্সের রপ্তানি ১০ শতাংশ, যা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চার গুণেরও কম। তৃতীয় স্থানে থাকা রাশিয়ার হিস্যা ৭ শতাংশ।
এরপরের অবস্থানগুলোতে রয়েছে জার্মানি ও চীন, উভয়েরই রপ্তানি ৬ শতাংশ করে। ইতালি ৫ শতাংশ নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে। সপ্তম স্থানে ইসরায়েল (৪ শতাংশ), অষ্টমে যুক্তরাজ্য (৩ শতাংশ), নবমে দক্ষিণ কোরিয়া (৩ শতাংশ) এবং দশমে স্পেন (২ শতাংশ) অবস্থান করছে।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র রপ্তানিকারক। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় তাদের এই অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। মূল কারণ, বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা। বিভিন্ন দেশ তাদের নিরাপত্তা জোরদার করতে উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র কিনতে আগ্রহী হচ্ছে।
বিশেষ করে ইউরোপে মার্কিন অস্ত্রের চাহিদা বেড়েছে। এর ফলে শুধু বাণিজ্যই নয়, আন্তর্জাতিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। মিত্র দেশগুলোর কাছে নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে তারা।
অস্ত্র রপ্তানির তালিকায় সাম্প্রতিক একটি বড় পরিবর্তন হলো জার্মানির এগিয়ে যাওয়া। ইউরোপে নিরাপত্তা–উদ্বেগ বাড়ায় দেশগুলোর মধ্যে সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা বেড়েছে, যা জার্মানির রপ্তানি বাড়াতে সহায়তা করেছে।
অন্যদিকে চীনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তাদের বাজার মূলত এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিস্তৃত। তুলনামূলক কম দাম, দ্রুত উৎপাদন এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার কারণে দেশটি দ্রুত নতুন বাজার তৈরি করছে। বিশেষ করে ট্যাংক, আর্টিলারি ও যুদ্ধবিমান রপ্তানিতে তারা বড় চুক্তি অর্জন করছে।

