দেশের বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে চলমান চাপের মধ্যে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি সহজ করতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, একক গ্রাহকের ঋণসীমার ২৫ শতাংশ শর্ত এলপিজি আমদানিকারকদের ক্ষেত্রে আপাতত প্রযোজ্য হবে না। এই সুবিধা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে বুধবার (২৫ মার্চ) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইনে নির্ধারিত ২৫ শতাংশ ঊর্ধ্বসীমা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ঋণসীমা নির্ধারণ করা হবে।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, এই সুবিধা শুধু এলপিজি আমদানির জন্য প্রযোজ্য হবে। অন্য কোনো পণ্যের ক্ষেত্রে একক ঋণগ্রহীতা সীমা অতিক্রমের সুযোগ থাকছে না।
জানা গেছে, এই সুবিধার দাবিতে এলপিজি ব্যবসায়ীরা আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আবেদন করেছিলেন। পরবর্তীতে নতুন সরকার গঠনের পর বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-এর কাছে উত্থাপন করা হয়। সেই প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে এ সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এলপিজি বাজারের বড় অংশীদাররা প্রায় ১৩টি ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানি কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং তাদের ক্ষেত্রে ঋণসীমা বড় বাধা নয়। বরং একক ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল কিছু ব্যবসায়ী এই সুবিধা পেতে বেশি আগ্রহী। তাদের ঋণ পরিশোধের অতীত রেকর্ডও সন্তোষজনক নয় বলে উল্লেখ করেছেন কর্মকর্তারা।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সার্কুলার জারি করে বাকিতে এলপিজি আমদানির সুযোগ দেয়। তখন অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট, বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বায়ার্স বা সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। এলপিজিকে শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে বিবেচনা করে ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৭০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।
পরে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার শুল্ক ও ভ্যাটেও ছাড় দেয়। ফেব্রুয়ারি মাসে এলপিজির স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট-ট্যাক্স অব্যাহতির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

