দেশের অর্থনীতিতে কিছুটা ইতিবাচক ছিল রপ্তানি প্রবৃদ্ধি। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এসে রপ্তানি আয় টানা পাঁচ মাস ধরে কমছে। অব্যাহত এই পতনে রপ্তানিতে স্থবিরতা কাটছেই না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেতিবাচক এই ধারা দেশের অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।
ইপিবির সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে রপ্তানি আয় কমেছে ১৪.২৫ শতাংশ। এটি গত দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পতন। ডিসেম্বরে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয়েছে ৩৯৭ কোটি ডলারের পণ্য, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৪৬২ কোটি ডলার।
গত অর্থবছর ২০২৪-২৫-এ দেশের মোট পণ্য রপ্তানি ছিল ৪,৮২৮ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় সাড়ে ৮ শতাংশ বেশি। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে পণ্য রপ্তানি নেমে এসেছে ২,৪০০ কোটি ডলারে, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ২,৪৫২ কোটি ডলার। অর্থাৎ রপ্তানি কমেছে ২.১৯ শতাংশ।
মাসিক ভিত্তিতে কিছুটা বৃদ্ধি থাকলেও সামগ্রিক চিত্র নেতিবাচক। ডিসেম্বরের রপ্তানি নভেম্বরের তুলনায় বেড়েছে ১.৯৭ শতাংশ, আর নভেম্বরের রপ্তানি অক্টোবরের তুলনায় বেড়েছিল ১.৭৭ শতাংশ।
ইপিবি বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে রপ্তানি হয়েছিল ৪৭৭ কোটি ডলার, আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। কিন্তু আগস্টে রপ্তানি কমে দাঁড়ায় ৩৯২ কোটি ডলারে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের রপ্তানি যথাক্রমে ৩৬৩ কোটি ও ৩৮২ কোটি ডলারে নেমে আসে। নভেম্বরে রপ্তানি হয়েছে ৩.৮৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪.১২ বিলিয়ন। এভাবে টানা পাঁচ মাস ধরে রপ্তানি আয় কমেছে।
রপ্তানিতে তৈরি পোশাক খাত শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। দেশের মোট রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি আসে এই খাত থেকে। তাই পোশাক রপ্তানি কমলে সামগ্রিক আয়েও প্রভাব পড়ে। চলতি বছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই খাতে রপ্তানি কমেছে। ওই সময়ে রপ্তানি হয়েছে ১৯.৩৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ২.৬৩ শতাংশ কম। একক মাস হিসেবে ডিসেম্বরের রপ্তানি ৩.২৩ বিলিয়ন ডলার, আগের বছরের ডিসেম্বরে ১৪.২৩ শতাংশ কম ছিল।
ইএবি সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়ার মূল কারণ চীন ও ভারতের আগ্রাসী রপ্তানি। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বেশি শুল্ক থাকায় তারা কম দামে পণ্য সরবরাহ করছে। এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্থিতিশীলতা নেই। বাড়তি শুল্কের কারণে পোশাকের দর বেড়েছে, চাহিদা কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। ব্যাংক লুটপাট, উচ্চ সুদহার ও অন্যান্য চ্যালেঞ্জের কারণে শিল্প খাত এখন মুমূর্ষু অবস্থায়। কিছু কাস্টমস কর্মকর্তা আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে রপ্তানিকারকদের ভোগান্তির কারণ হচ্ছেন।
ইপিবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, খাতভিত্তিক নিটওয়্যার ও ওভেন উভয় রপ্তানিতেই পতন হয়েছে। জুলাই-ডিসেম্বরে নিটওয়্যার রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ১০.৪৯ বিলিয়ন ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় ৩.২২ শতাংশ কম। ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৮.৮৮ বিলিয়ন ডলার, কমেছে ১.৯১ শতাংশ।

