দেশব্যাপী ডিজিটালাইজেশনের অংশ হিসেবে রফতানি-সংক্রান্ত কাগজপত্র ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে দাখিল ও প্রক্রিয়াকরণের নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
গতকাল মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত সার্কুলারে বলা হয়েছে, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো ব্যাংক-টু-ব্যাংক ইলেকট্রনিক মাধ্যমে রফতানি ডকুমেন্ট প্রক্রিয়াকরণ করতে পারবে। এই নতুন নিয়ম ডকুমেন্টস অ্যাগেইনস্ট পেমেন্ট (ডিপি) ও ডকুমেন্টস অ্যাগেইনস্ট অ্যাকসেপ্টেন্স (ডিএ) পদ্ধতির ডকুমেন্টারি কালেকশন ব্যবস্থায় প্রযোজ্য হবে।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইউনিফর্ম রুলস ফর কালেকশনস (ইউআরসি ৫২২)-এর ইলেকট্রনিক প্রেজেন্টেশন সংক্রান্ত সম্পূরক বিধি (ই-ইউআরসি) অনুসরণ করে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এডি ব্যাংকগুলোকে ইলেকট্রনিকভাবে ডকুমেন্ট উপস্থাপনের আগে বিদেশি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক যেমন কালেক্টিং বা প্রেজেন্টিং ব্যাংকের সঙ্গে পারস্পরিক সমঝোতা চুক্তি করতে হবে। চুক্তিতে ইলেকট্রনিক রেকর্ডের ফরম্যাট এবং উপস্থাপনের নির্ধারিত স্থান স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। এছাড়া, সকল বিক্রয় চুক্তিতেও ই-ইউআরসি নির্দেশনা অনুযায়ী ইলেকট্রনিক ডকুমেন্টারি কালেকশন ব্যবহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
যেসব দেশে ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারেবল রেকর্ডস (ইটিআর) আইনগতভাবে অনুমোদিত, সেখানে কার্গোর মালিকানা সম্পর্কিত কাগজসহ সব ডকুমেন্ট ইলেকট্রনিকভাবে উপস্থাপন করা যাবে। শর্ত হলো, এসব ডকুমেন্টের আইনগত বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ থাকতে হবে। তবে যেখানে ইটিআর অনুমোদিত নয়, সেখানে বিল অব লেডিং বা বিল অব এক্সচেঞ্জের মতো মালিকানা বা হস্তান্তরযোগ্য কাগজপত্র কাগজে পাঠাতে হবে। অন্যান্য সহায়ক ডকুমেন্ট ইলেকট্রনিকভাবে পাঠানো যাবে। কোনো ক্ষেত্রে কালেক্টিং ব্যাংক যদি ইলেকট্রনিক উপস্থাপনের পরও কাগজপত্র দাবি করে, তখন এডি ব্যাংক প্রমাণিত ইলেকট্রনিক কপি সরবরাহ করতে পারবে।
নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একাধিক সুরক্ষিত অ্যান্ডোর্সমেন্ট পদ্ধতির অনুমোদন দিয়েছে। স্বীকৃত প্ল্যাটফর্মে ইস্যুকৃত পরিবহন ডকুমেন্টের ক্ষেত্রে ডিজিটাল স্বাক্ষর বা অডিট ট্রেইলসমৃদ্ধ টুল ব্যবহার করা যাবে। বিকল্প হিসেবে ডিজিটালি সাইন করা এন্ডোর্সমেন্ট সার্টিফিকেট (ডিএসইসি) অথবা সুইফটভিত্তিক বার্তাও অ্যান্ডোর্সমেন্ট প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সব ইলেকট্রনিক উপস্থাপনার পূর্ণাঙ্গ অডিট ট্রেইল সংরক্ষণ করতে হবে। বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংকগুলোকে আন্তর্জাতিক তথ্য নিরাপত্তা মানদণ্ডের সঙ্গে তাদের সিস্টেম সামঞ্জস্য করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ঝুঁকিভিত্তিক ও ধাপে ধাপে ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রাথমিকভাবে পাইলট ভিত্তিতে কার্যক্রম শুরু করা যাবে। কার্যক্রম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে। ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে রফতানি প্রক্রিয়ার আইনগত বৈধতা ও নিরাপত্তা বজায় রেখে নির্বিঘ্ন রূপান্তর নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

