চট্টগ্রাম বন্দরে গত বছর রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেবা মান অক্ষুণ্ণ রেখে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর ফলে ২০২৫ সালে আয় আগের পাঁচ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৫ সালে রাজস্ব আয় হয়েছে ৫ হাজার ৪৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা। এর আগে ২০২৪ সালে আয় ছিল ৫ হাজার ৭৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ২০২৩ সালে ৪ হাজার ১৬৫ কোটি ১৯ লাখ, ২০২২ সালে ৩ হাজার ৫৬৯ কোটি ৩৪ লাখ, এবং ২০২১ সালে ৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
গত পাঁচ বছরের উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজস্ব প্রবৃদ্ধির দিক থেকে সবচেয়ে ভালো সময় ছিল ২০২৪ সাল। ওই বছর প্রবৃদ্ধি ২১.৮৮ শতাংশ। ২০২৫ সালে আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধি হয়েছে ৭.৫৫ শতাংশ। ২০২৩ সালে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬.৬৯ শতাংশ, ২০২২ সালে ৬.১৮ শতাংশ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক বলেন, “অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধের নীতি কঠোরভাবে মেনে চলায় দুই বছর ধরে রাজস্ব ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি এক অঙ্কের ঘরে রাখা সম্ভব হয়েছে।” তিনি আরও জানান, গত পাঁচ বছরে ভ্যাট, ট্যাক্স ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব (এনটিআর) বাবদ সরকারকে মোট ৭ হাজার ৫৮০ কোটি ২০ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে কর হিসেবে ৩ হাজার ৫৫৩ কোটি ৮ লাখ, ভ্যাট হিসেবে ৩ হাজার ৪২৭ কোটি ১২ লাখ এবং কর-বহির্ভূত রাজস্ব ৬০০ কোটি টাকা জমা পড়েছে।
সরকারের কোষাগারে জমা দেয়া রাজস্ব হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বন্দর ১ হাজার ৮০৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা দিয়েছে। ২০২৪ সালে ১ হাজার ৭১১ কোটি ৭৫ লাখ, ২০২৩ সালে ১ হাজার ৫১৯ কোটি ৩৫ লাখ, ২০২২ সালে ১ হাজার ৩৫৯ কোটি ৫৯ লাখ, এবং ২০২১ সালে ১ হাজার ১৮৫ কোটি ৪ লাখ টাকা জমা হয়েছিল।
রাজস্ব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ব্যয়ও বেড়েছে। ২০২৫ সালে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৩১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২৪ সালে ব্যয় ছিল ২ হাজার ১৫৩ কোটি ৫৮ লাখ, ২০২৩ সালে ২ হাজার ২২ কোটি ৮ লাখ, ২০২২ সালে ১ হাজার ৮৩৫ কোটি ১৪ লাখ, এবং ২০২১ সালে ১ হাজার ৭২৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। ২০২৫ সালে কাস্টমসের কর্মবিরতি, ধর্মঘটসহ নানা কারণে বন্দর ও দেশের লজিস্টিক খাতে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবুও রাজস্ব আয়ে ইতিবাচক ফল দেখিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর আমাদের সবার। সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আসছে। সেই ধারা বজায় রাখতে বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। আমরা আশা করি, রাজস্ব আয়ের এই সাফল্য বন্দর ধরে রাখতে পারবে।”

