বিশ্ববাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে দুই টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন এই সিদ্ধান্তে সাধারণ ভোক্তাদের পাশাপাশি পরিবহন ও কৃষিখাতেও কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শনিবার রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডিজেলের দাম লিটারে দুই টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা। এর আগে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ছিল ১০২ টাকা।
একইভাবে অকটেনের দামও লিটারে দুই টাকা কমানো হয়েছে। আগে যেখানে অকটেনের দাম ছিল ১২২ টাকা, নতুন দামে তা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২০ টাকা প্রতি লিটার। পেট্রলের ক্ষেত্রেও একই হারে মূল্যহ্রাস করা হয়েছে। ফলে পেট্রলের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটার ১১৬ টাকা, যা আগে ছিল ১১৮ টাকা।
এ ছাড়া কেরোসিনের দামও কমানো হয়েছে লিটারে দুই টাকা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন কেরোসিন বিক্রি হবে প্রতি লিটার ১১২ টাকায়, যেখানে আগে ভোক্তাদের গুনতে হতো ১১৪ টাকা।
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, জ্বালানি তেলের এই নতুন মূল্যহার কার্যকর হবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে। অর্থাৎ মাসের শুরু থেকেই নতুন দামে জ্বালানি কিনতে পারবেন ভোক্তারা।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে ওঠানামার প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারে প্রতিফলিত করার নীতির অংশ হিসেবেই এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও লিটারে দুই টাকা কমা খুব বড় অঙ্ক না হলেও, চলমান মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা মানুষের জন্য এটি কিছুটা হলেও স্বস্তির খবর।
বিশেষ করে পরিবহন খাতে জ্বালানি তেলের দামের প্রভাব সরাসরি পড়ে নিত্যপণ্যের বাজারে। ফলে এই মূল্যহ্রাস দীর্ঘমেয়াদে পণ্য পরিবহনের খরচ কমাতে সহায়ক হতে পারে—এমন প্রত্যাশাও করছেন অর্থনীতিবিদরা।
ফেব্রুয়ারির শুরুতেই জ্বালানি তেলের দামে এই ছাড় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

