ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার এবারের আসর শেষ হয়েছে উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সাফল্যের মধ্য দিয়ে। মেলা থেকে মোট ২২৪ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি দেশীয় বাজারে প্রায় ৩৯৩ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। গতকাল শনিবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচলের বাংলাদেশ–চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইর প্রশাসক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ।
আয়োজকদের তথ্যমতে, এবারের মেলায় দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে ৩২৯টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য রপ্তানি আদেশের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২৪ কোটি টাকা। এই রপ্তানি আদেশ এসেছে আফগানিস্তান, সিঙ্গাপুর, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও তুরস্ক থেকে।
মেলার অভ্যন্তরীণ বাজারেও ছিল সক্রিয় বেচাকেনা। রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন স্টল থেকে আনুমানিক ৩৯৩ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার মেলায় বিক্রয়মূল্য বেড়েছে ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ।
সমাপনী দিনে বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে সেরা প্যাভিলিয়ন, স্টল ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কারের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। নির্মাণ কাঠামো ও স্থাপত্য সৌন্দর্য, অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা, পণ্য উপস্থাপন, ক্রেতা ও দর্শকসেবা, ক্রেতার সন্তুষ্টি, বরাদ্দপত্রের শর্ত পালন, পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ, ডিজিটাল কনটেন্ট, রপ্তানিকারক ও উৎপাদনকারী হিসেবে অবদান এবং ইনোভেশনের মতো সূচক বিবেচনায় ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
এবারের মেলায় বিদেশি অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়া—এই ছয়টি দেশের ১১টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নেয়। দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ভারী শিল্পখাতের নানা পণ্য ও সেবা প্রদর্শন ও বিক্রি করে। এর মধ্যে ছিল পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ফার্নিচার, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, কসমেটিকস, গৃহসজ্জা, খেলনা, স্টেশনারিজ, হোম ডেকোর, ক্রোকারিজ, হস্তশিল্প, প্লাস্টিক ও মেলামাইন পণ্য, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি এবং রিয়েল এস্টেট খাতের বিভিন্ন পণ্য ও সেবা।

