রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানিয়েছে, তৈরি পোশাক খাত বাদে দেশের শীর্ষ ছয়টি রফতানি খাত হলো চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষি ও কৃষিপ্রক্রিয়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং হিমায়িত মাছ।
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের রফতানি আয় হয়েছে ৪৪১ কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। ২০২৫ সালের জানুয়ারির তুলনায় এ রফতানি প্রায় ০.৫০ শতাংশ কম। তবে ডিসেম্বর ২০২৫-এর ৩৯৬ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার ডলারের তুলনায় এটি ১১.২২ শতাংশ বেড়েছে, যা মাসভিত্তিক ভিত্তিতে দুই অংকের অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত মোট রফতানি দাঁড়িয়েছে ২,৮৪১ কোটি ৫ লাখ ২০ হাজার ডলারে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি ছিল ২,৮৯৬ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। এই সামান্য হ্রাস বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির প্রভাবকে প্রতিফলিত করছে।
তৈরি পোশাক খাত তার প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। এই খাত থেকে রফতানি হয়েছে ২,২৯৮ কোটি ২ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১১.৭৭ শতাংশ বেড়েছে। ইপিবি বলেছে, এটি বৈশ্বিক বাজারে টেকসই চাহিদা ও খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার পরিচায়ক। তৈরি পোশাক ছাড়া অন্যান্য শীর্ষ ছয়টি রফতানি খাতের পারফরম্যান্স মিশ্র ছিল। তবে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্য এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য উভয় মাস ও বছর ভিত্তিতে বৃদ্ধি দেখিয়েছে।
প্রধান রফতানি গন্তব্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে শীর্ষ রফতানি বাজার হিসেবে ধরে রেখেছে। জুলাই-জানুয়ারি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হয়েছে ৫২১ কোটি ৬৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি আগের বছরের একই সময়ে ১.৬৪ শতাংশ, বছর ভিত্তিতে ৩.৫৯ শতাংশ এবং মাস ভিত্তিতে ২.২৪ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাজারেও রফতানিতে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
জার্মানি ও যুক্তরাজ্য যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম রফতানি গন্তব্য হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে রফতানি হয়েছে যথাক্রমে ২৮৫ কোটি ২২ লাখ এবং ২৭৭ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। এ তথ্য প্রধান বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের দৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রমাণ বহন করে।

