বাংলাদেশের রপ্তানি ছয় মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করেছে। সদ্য সমাপ্ত জানুয়ারি মাসে রপ্তানি আয় ৪৪১ কোটি ডলারের সামান্য বেশি মাত্রা নিয়ে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কম। রপ্তানি হ্রাসের এই প্রবণতা আগস্ট থেকে চালু রয়েছে। তবে মাসভিত্তিক তুলনায় জানুয়ারিতে রপ্তানি ডিসেম্বরের চেয়ে বেড়েছে।
ডিসেম্বরে রপ্তানি ৩৯৭ কোটি ডলারে দাঁড়ায় এবং জানুয়ারিতে বেড়ে ৪৪১ কোটি ডলার হয়। অর্থাৎ এক মাসে রপ্তানি ১১ শতাংশ বা ৪৪ কোটি ডলার বেড়েছে। আগের মাসের তুলনায় রপ্তানি বৃদ্ধির এই ধারা নভেম্বরে শুরু হয়েছিল। নভেম্বর মাসে অক্টোবরের তুলনায় রপ্তানি ২ শতাংশ বেড়েছিল। ডিসেম্বরেও নভেম্বরের তুলনায় ১.৯৭ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে।
তবে মাস ভিত্তিক বৃদ্ধি থাকলেও বছরের তুলনায় রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক রয়েছে। এর কারণ হলো, গত বছরের একই সময়ের রপ্তানি তুলনায় বেশি ছিল। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫ সালের নভেম্বরে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬ শতাংশ, ডিসেম্বরে ১৮ শতাংশ এবং জানুয়ারিতে ৬ শতাংশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত প্রথম সাত মাসে রপ্তানি আয় ২ হাজার ৮৪১ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ২ হাজার ৮৯৭ কোটি ডলারের তুলনায় ১.৯৩ শতাংশ কম। অর্থাৎ গত সাত মাসে রপ্তানি আয় ৫৫ কোটি ডলার কমেছে।
রপ্তানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মতামত দিতে গিয়ে মোটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মাসুদ কবীর বলেন, “নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পণ্য সরবরাহে বিলম্ব বা অনিশ্চয়তার কারণে অনেক আন্তর্জাতিক ক্রেতা রপ্তানি আদেশ স্থগিত রেখেছে। কেউ স্বাভাবিকের চেয়ে কম অর্ডার দিচ্ছে। এ ছাড়া মার্কিন পাল্টা শুল্কের প্রভাবে বৈশ্বিক চাহিদা কমেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ সাধারণত মৌলিক পোশাক রপ্তানি করে। এই পণ্যের ভোক্তারা ক্রয়ক্ষমতা কম হওয়ায় রপ্তানি গতি থেমে গেছে। পাল্টা শুল্ক এখন ৩৬ শতাংশ। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কিছুটা শ্লথ। ইউরোপ ও নতুন বাজারে চীন ও ভারতের আগ্রাসী বাণিজ্যও চাপে রেখেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই পরিস্থিতি থেকে দ্রুত উত্তরণের সম্ভাবনা নেই।”
ইপিবির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে ২ হাজার ২৯৮ কোটি ডলার হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এটি ছিল ২ হাজার ৩৫৫ কোটি ডলার। একক জানুয়ারি মাসে রপ্তানি ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ কমে ৩৬১ কোটি ডলার হয়েছে, যেখানে গত বছরের জানুয়ারি মাসে ছিল ৩৬৬ কোটি ডলার। পোশাকের মধ্যে নিট বা গেঞ্জি জাতীয় পণ্যের রপ্তানি বেশি হারে কমেছে। নিট পণ্যের রপ্তানি ২ দশমিক ৬১ শতাংশ, ওভেনের ০.০৭ শতাংশ কমেছে।
অন্যদিকে কিছু খাতের রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। হিমায়িত ও জীবন্ত মাছের রপ্তানি প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়েছে। ওষুধ রপ্তানি ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৩ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। চামড়া ও চামড়া পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৬ শতাংশ। পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি ১২ শতাংশ, হোমটেক্সটাইল খাতের রপ্তানি ৫ শতাংশ বেড়েছে।

