সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক সক্ষমতা জোরদার করতে চীন থেকে চারটি নতুন জাহাজ কেনার বিষয়ে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এই চুক্তির মাধ্যমে দেশের জাহাজ চলাচল সক্ষমতা বাড়ানো এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে আরও গতি আনার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।
রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি, এই চুক্তিতে সই হয়। চীন সরকারের পক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী যৌথভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
ঢাকার চীনা দূতাবাসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেনা চারটি জাহাজের মধ্যে দুটি হবে ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাংকার এবং বাকি দুটি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার। পুরো প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ কোটি ১৯ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার।
ব্যয়ের খাতভিত্তিক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, দুটি ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাংকার কিনতে খরচ হবে ১৫ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। অন্যদিকে দুটি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার সংগ্রহে ব্যয় হবে ৮ কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার।
এই চুক্তিকে বাংলাদেশের সামুদ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন জাহাজ যুক্ত হলে জ্বালানি পরিবহন ও পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে দেশের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়বে, কমবে বিদেশি জাহাজের ওপর নির্ভরতা।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চারটি নতুন জাহাজ সংগ্রহ প্রকল্প বাংলাদেশের জাহাজ চলাচলের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। একই সঙ্গে এটি বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক হবে এবং দেশের সামুদ্রিক স্বায়ত্তশাসনকে আরও শক্তিশালী করবে।
তিনি আরও বলেন, চীন বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সুপ্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ নীতি অনুসরণ অব্যাহত রাখবে। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায় বেইজিং, যাতে বাংলাদেশের জনগণ বাস্তব ও দীর্ঘমেয়াদি সুফল পায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি ও কাঁচামাল পরিবহনের খরচ যখন বাড়ছে, তখন নিজস্ব মাদার ট্যাংকার ও বাল্ক ক্যারিয়ার থাকা বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত সুবিধা তৈরি করবে। এতে সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আসবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে আমদানি ব্যবস্থাপনায় আরও নিয়ন্ত্রণ পাওয়া যাবে।
চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় এই চুক্তিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। অবকাঠামো, জ্বালানি ও বাণিজ্য খাতে দুই দেশের সহযোগিতা যে ধাপে ধাপে গভীর হচ্ছে, এই জাহাজ ক্রয় চুক্তি তারই একটি বাস্তব প্রতিফলন।

