Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice সোম, ফেব্রু. 23, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি—বাংলাদেশের জন্য সুযোগ নাকি হুমকি?
    বাণিজ্য

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি—বাংলাদেশের জন্য সুযোগ নাকি হুমকি?

    মনিরুজ্জামানফেব্রুয়ারি 22, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত একতরফা ‘পাল্টা শুল্ক’ অবৈধ ঘোষণা করেছে। এ সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি)’ চুক্তিতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে কোনো উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবে না। তারা চুক্তিটি পুনঃপর্যালোচনার পরামর্শ দিয়েছেন।

    গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত এ চুক্তিতে পাল্টা শুল্কের হার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছিল। শুরুতে এটি ৩৭ শতাংশে ছিল। ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মনে করা, এই চুক্তি রপ্তানিকারকদের জন্য বিশেষ কোনো সুবিধা আনতে পারবে না, কারণ নতুন শুল্ক হার সবার জন্য সমান থাকায় প্রতিযোগিতা আগের মতোই থাকবে।

    অন্যদিকে, কিছু ব্যবসায়ী ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন, চুক্তিটি তাড়াহুড়ো করে সম্পন্ন করা হয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, বাংলাদেশের জন্য কিছু শর্ত অসুবিধাজনক হতে পারে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বড় পরিমাণ আমদানি করতে হলে। তারা মনে করছেন, চুক্তিটি পুনঃমূল্যায়নের প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত এই পর্যালোচনাকে আরও প্রাসঙ্গিক করেছে।

    ১৯ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নেমে আসা ট্যারিফ স্বল্পমেয়াদে বাংলাদেশের জন্য সুখবর হলেও, ১৫০ দিনের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত কী হবে, তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত ও নীতিমালার ওপর। তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো— সঠিক প্রস্তুতি, কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং নীতিগত দৃঢ়তা। বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি কেবল একটি সুযোগ নয়, বরং কৌশলগত পুনর্মূল্যায়নের সময়।

    রপ্তানিকারকদের বক্তব্য অনুযায়ী:

    যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপিত পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করার পর বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের সামনে এখন প্রশ্ন— আমরা কি সত্যিই লাভবান হচ্ছি, নাকি পরিবর্তনটি শুধু প্রতিযোগী দেশগুলোর সুবিধা বৃদ্ধি করছে।

    বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “আগে আমরা ৩৭ শতাংশ থেকে ১৯ শতাংশ ট্যারিফ কমানোর মাধ্যমে কিছু সুবিধা পেয়েছিলাম, কিন্তু আদালতের রায়ে সেই কাঠামো বাতিল হয়ে যাওয়ায় এখন সেগুলো কার্যকর নেই। নতুন ১০ শতাংশ ট্যারিফ সব দেশের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়ায় আমাদের আগের লাভ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনঃস্থাপন হয়নি।”

    তিনি আরও বলেন, “এ পরিস্থিতিতে চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ কী দিচ্ছে এবং কী পাচ্ছে—তা পুনঃপর্যালোচনা করা প্রয়োজন। আমাদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে চুক্তিটি পুনর্মূল্যায়ন ও সমন্বয় করা জরুরি, যাতে আমরা সুবিধা নিতে পারি। যদি যুক্তরাষ্ট্রকে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হয়, তবে বিনিময়ে বাংলাদেশের জন্যও সমান সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, চুক্তিটি অসম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।”

    বর্তমানে ১৯ শতাংশ পাল্টা শুল্কের পরিবর্তে প্রায় ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হলে ক্রেতারা কিছুটা সুবিধা পাবেন এবং কাজের অর্ডার বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে একজন রপ্তানিকারককে মোট প্রায় ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হতে পারে।

    বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক, কারণ এতে প্রতিযোগিতায় সমতা ফিরে এসেছে এবং ল্যান্ডিং কস্ট কমেছে। ফলে গার্মেন্টস রপ্তানিতে অর্ডার বৃদ্ধি ও দামের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব।” তিনি যোগ করেন, “তবে রপ্তানিকারকদের উচিত নিজেদের মধ্যে ন্যায্যমূল্য বজায় রাখা, যাতে শুধু অর্ডার বাড়ে না, গড় রপ্তানি মূল্যও ধরে রাখা যায়।”

    চুক্তির ভবিষ্যৎ কী:

    যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসন যে ১৯ শতাংশ ট্যারিফ কাঠামোতে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে সমঝোতায় গিয়েছিল, তা এখন কার্যত ১০ শতাংশে নেমে এসেছে— অন্তত আগামী ১৫০ দিনের জন্য। প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, ১০ শতাংশের বেশি যেসব ট্যারিফ চুক্তি ছিল, সেগুলো আপাতত ১০ শতাংশে সমন্বিত হবে। এ সময়ে দেশভিত্তিক পর্যালোচনাও চলবে।

    আইনগতভাবে ট্যারিফ কাঠামো যদি আদালতের রায়ে অকার্যকর হয়ে থাকে, তাহলে ১৯ শতাংশ-ভিত্তিক সমঝোতার বাধ্যবাধকতাও দুর্বল হয়ে যায়। অর্থাৎ, বাংলাদেশকে ১৯ শতাংশ ট্যারিফের ভিত্তিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহাল রাখতে হবে— এমন বলা কঠিন। ট্যারিফ যদি ১০ শতাংশে নেমে আসে, তবে আগের শর্তগুলো পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়।

    বেসরকারি খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান মন্তব্য করেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রেসিপ্রোকাল ট্যারিফকে অবৈধ ঘোষণা করায় বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামোয় বড় পরিবর্তন এসেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের ওপরও। আগে যে সমঝোতার মাধ্যমে ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ ট্যারিফ নির্ধারণের কথা হয়েছিল, সেই কাঠামো এখন কার্যত আইনি ভিত্তি হারিয়েছে।”

    আগামী ১৫০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার অভিযোগ তদন্ত করতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ট্যারিফ আরোপ হতে পারে, অন্যথায় ট্যারিফ শূন্যেও নেমে আসতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের উচিত সতর্ক থাকা এবং বাণিজ্যচুক্তির যে কোনো দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা দ্রুত দূর করার উদ্যোগ নেওয়া।

    বাংলাদেশের করণীয় বিষয়গুলো কী কী:

    যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপিত রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ অবৈধ ঘোষণা করার পর বাংলাদেশের সামনে বাণিজ্যিক দিক থেকে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ দুটোই তৈরি হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি অস্থির এবং সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও সিদ্ধান্তের দিক থেকে।

    বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “এখন আবেগ নয়, কৌশল জরুরি। বাংলাদেশের উচিত— ১৫০ দিনের ‘উইন্ডো’কে কাজে লাগিয়ে সম্ভাব্য অভিযোগের জায়গাগুলো চিহ্নিত করা, শ্রমমান, পরিবেশমান ও বাণিজ্য স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে প্রস্তুতি শক্তিশালী করা, প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থান বিশ্লেষণ করে বিকল্প কৌশল তৈরি করা এবং নতুন বাস্তবতায় পুনঃআলোচনার প্রস্তুতি রাখা।”

    ড. হোসেনের মতে, ১৯ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নেমে আসা ট্যারিফ স্বল্পমেয়াদে সুবিধা দিচ্ছে, কারণ এতে প্রতিযোগিতায় সমতা ফিরে এসেছে। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। ১৫০ দিনের পর কী হবে, তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর। তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো— প্রস্তুতি, কৌশল ও নীতিগত দৃঢ়তা।

    সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের জন্য এই পরিস্থিতি একদিকে সুযোগ, অন্যদিকে ঝুঁকি তৈরি করেছে। যেসব শর্তের ভিত্তিতে ট্যারিফ কমানোর আলোচনা হয়েছিল— যেমন মার্কেট অ্যাকসেস বৃদ্ধি, সরকারি ক্রয়ে সুযোগ, নির্দিষ্ট পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি— সেগুলো এখন নতুন করে পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ কাঠামো অবৈধ হওয়ায় পূর্বের শর্তগুলো বাধ্যতামূলক নয়। চুক্তিতে নোটিফিকেশন পিরিয়ড ও এক্সিট ক্লজ থাকলে বাংলাদেশ আইনি কাঠামোর মধ্যেই পুনর্বিবেচনা করতে পারে।”

    তবে ড. রহমান সতর্ক করেছেন, ঝুঁকিও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিকল্পভাবে সবার ওপর সমান হারে ট্যারিফ আরোপ করতে পারে বা নতুন অ-ট্যারিফ বাধা সৃষ্টি করতে পারে। নির্দিষ্ট সময়সীমা— যেমন ১৫০ দিনের মধ্যে— নতুন শর্ত, কোটা বা রপ্তানির সীমা আরোপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই হঠাৎ করে চুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত কৌশলগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।

    ড. রহমানের সুপারিশ হলো— পূর্ববর্তী আলোচনায় দেওয়া সব প্রতিশ্রুতির পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা, ব্যয়বহুল বা অপ্রয়োজনীয় আমদানি ও ক্রয় প্রতিশ্রুতি পুনর্মূল্যায়ন, নতুন আইনি বাস্তবতায় আলোচনার প্রস্তুতি নেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প বাণিজ্য সীমাবদ্ধতা আরোপ করলে তার মোকাবিলায় কৌশল নির্ধারণ। বাংলাদেশের জন্য এই সময়টি শুধুই এক সুযোগ নয়, বরং কৌশলগত পুনর্মূল্যায়নের সময়, যাতে দেশের স্বার্থ সর্বোচ্চভাবে সুরক্ষিত থাকে।

    অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত কি তাড়াহুড়োর ছিল?

    বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি)’ স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে পাল্টা শুল্কের হার ১ শতাংশ কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে এটি ছিল ২০ শতাংশ, এবং শুরুতে ৩৭ শতাংশে ছিল।

    সমালোচকরা মনে করেন, ১৯ শতাংশের চুক্তি না করলেও হতো এবং এটি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য রাখা যেত। তবে বিকল্প ছিল— আগের ৩৭ শতাংশ ট্যারিফ মেনে নেওয়া বা সমঝোতার পথে যাওয়া। এই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার চুক্তিতে একটি ‘এক্সিট ক্লজ’ রেখে সম্মত হয়েছিল। তাই এটি পুরোপুরি অচিন্তিত সিদ্ধান্ত বলা কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বর্তমান পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

    বাংলাদেশের দায়বদ্ধতা:

    চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিল্প ও কৃষিপণ্যের জন্য উল্লেখযোগ্য অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা দিতে সম্মত হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে— রাসায়নিক দ্রব্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি, মোটরযান ও যন্ত্রাংশ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সরঞ্জাম, জ্বালানি পণ্য, সয়াবিন, দুগ্ধজাত পণ্য, গরুর মাংস, পোলট্রি, বাদাম ও ফল। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিকারকদের জন্য দীর্ঘদিনের কিছু অশুল্ক বাধা দূর করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত—

    • মার্কিন নিরাপত্তা ও পরিবেশগত মান অনুযায়ী তৈরি গাড়ি গ্রহণ
    • মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অনুমোদিত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম গ্রহণ
    • পুনর্নির্মিত (রিম্যানুফ্যাকচারড) পণ্যের ওপর আমদানি নিষেধাজ্ঞা ও লাইসেন্সিং বাধা প্রত্যাহার

    চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ সীমান্তপাড়ের তথ্য প্রবাহের অনুমতি দেবে এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় ইলেকট্রনিক ট্রান্সমিশনের ওপর শুল্কমুক্ত নীতি বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নেবে। পাশাপাশি কাস্টমস প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশন এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    বড় বাণিজ্যিক চুক্তি: চুক্তির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে কয়েকটি বড় বাণিজ্যিক ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

    • বিমান ক্রয়
    • প্রায় ৩৫০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য (গম, সয়াবিন, তুলা ও ভুট্টা) আমদানি
    • আগামী ১৫ বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলারের জ্বালানি পণ্য ক্রয়

    এ চুক্তি বাংলাদেশের জন্য সুযোগ ও দায়িত্বের সমন্বয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে বাজার সুবিধা পেতে হলে নির্দিষ্ট অঙ্গীকার ও প্রস্তুতি রাখতে হবে।

    মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের প্রাপ্ত সুবিধা:

    বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি)’ চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্কহার কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে শূন্য শতাংশ শুল্ক সুবিধা প্রদানের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত— তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ শুল্ক সুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য শুল্কমুক্তভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। তবে এই সুবিধা শুধুমাত্র তখনই কার্যকর হবে, যখন পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহৃত হবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিতে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু বস্ত্র ও পোশাকপণ্যের জন্য পারস্পরিক শুল্ক হ্রাসকৃত বা শূন্য হারের সুবিধা দেওয়া হবে। এই ব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাক ও বস্ত্রপণ্য হ্রাসকৃত শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। তবে এ পরিমাণ নির্ধারিত হবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রপ্তানি করা বস্ত্রজাত পণ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে— যেমন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা ও কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক বস্ত্র উপকরণ। এ পদক্ষেপ বাংলাদেশের পোশাক ও টেক্সটাইল রপ্তানিতে বিশেষ সুবিধা এবং বাজার প্রবেশে প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করবে।

    মার্কিন বাজার কেন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ?

    যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য একক সর্ববৃহৎ বাজার, যেখানে তৈরি পোশাকের মোট রপ্তানির প্রায় ১৯ শতাংশ যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীনে ইউএস অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা) জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে ৭.৬ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছে। আগের বছরের একই সময় এই পরিমাণ ছিল ৬.৭৬ বিলিয়ন ডলার। মোট আমদানিকৃত পোশাকের মধ্যে প্রায় ৫.১৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য তুলাভিত্তিক, এবং বাকি অংশ নন-কটন বা তুলা-বহির্ভূত পণ্য।

    ২০২৫ সালে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে প্রায় ৩৮.৮২ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি হয়েছে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে। এই পরিসংখ্যানের মাধ্যমে স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত বাজার হিসেবে বিবেচিত।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    বৈশ্বিক ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণে দেশের পোশাকশিল্প কতটা সক্ষম?

    ফেব্রুয়ারি 22, 2026
    বাণিজ্য

    ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধের নতুন মানচিত্র: শুল্ক তালিকায় কোন পণ্য ও দেশ?

    ফেব্রুয়ারি 22, 2026
    বাণিজ্য

    রোজার বাজারে খেজুরের আমদানি বাড়লেও দাম উর্ধ্বমুখী

    ফেব্রুয়ারি 22, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    ইরাকে নতুন আইন নিয়ে উদ্বেগ, শাস্তির ভয় সবার মনে

    আন্তর্জাতিক আগস্ট 4, 2025

    ১১৭ বছরের সকল জমির দলিল এখন অনলাইনে

    বাংলাদেশ নভেম্বর 9, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.