যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের জুতার রপ্তানি ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। বৈশ্বিক বাণিজ্য ও শুল্কসংক্রান্ত টানাপোড়েনের মধ্যেই এই প্রবৃদ্ধি দেখা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, চীন ও ভিয়েতনামের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করায় অনেক মার্কিন ক্রেতা বাংলাদেশকে নতুনভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধিভুক্ত সংস্থা অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (OTEXA)–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে জুতা রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৮৭ দশমিক ৭২ মিলিয়ন ডলার। এর আগের বছর ২০২৪ সালে এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২৫৫ দশমিক ২১ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৫২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে খাতটি।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের জুতার রপ্তানি আরও বাড়ানোর বড় সুযোগ রয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে উৎপাদন থেকে বাজারে পণ্য পৌঁছানোর সময় কমানো বা “স্পিড টু মার্কেট” বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা সহজ করা, বিশেষ করে কাস্টমস প্রক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকর করা প্রয়োজন। কারণ দীর্ঘ সময় লাগলে ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহে বিলম্ব ঘটে, যা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাম্প্রতিক এই প্রবৃদ্ধির আগে টানা দুই বছর রপ্তানি আয় প্রায় স্থবির ছিল। ২০২৪ সালে যেখানে আয় ছিল প্রায় ২৫৫ মিলিয়ন ডলার, সেখানে ২০২৩ সালে ছিল প্রায় ২৩৫ মিলিয়ন ডলার। সেই তুলনায় ২০২৫ সালের উল্লম্ফন জুতা রপ্তানি খাতে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ শৃঙ্খলে পরিবর্তন এবং নতুন উৎস খোঁজার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের জুতা শিল্প আগামী বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আরও বড় অংশীদার হয়ে উঠতে পারে।

