রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এতে স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৫ জনই শিশু। আহত হয়েছেন আরও ৭৮ জন। এর মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
গতকাল সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টার কিছু পর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। প্রশিক্ষণ বিমানটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গেই আগুন ধরে যায়। ভবনটির কক্ষগুলোতে তখন অনেক শিক্ষার্থী অবস্থান করছিল। আগুন ও ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়ে অনেকেই হতাহত হন।
দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিতে সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরাও যুক্ত হন। বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা আহতদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর আজ মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ হাইকোর্টে এক ঘোষণায় বলেন, “উত্তরায় যে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখানে বহু শিশু নিহত হয়েছে। আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। আজ দুপুরের পর থেকে হাইকোর্টে বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।”
ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো অবস্থান করছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বিমানটি প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে উড্ডয়নের পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং স্কুল ভবনে পড়ে যায়। দেশজুড়ে এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বিবৃতিতে নিহতদের প্রতি গভীর শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে এখনো আতঙ্ক ও বেদনার পরিবেশ বিরাজ করছে।

