পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬০ কাঠা প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা ছয়টি মামলা বিচারাধীন দুইটি আলাদা আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছে। এসব মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামী ৩১ জুলাই দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র বলছে, এই মামলাগুলো ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এবং বিশেষ জজ আদালত-৫ এ তিনটি করে ভাগ করে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত রোববার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন গালিব মামলাগুলো বিচারের জন্য বদলির নির্দেশ দেন।
মামলায় আসামি হিসেবে নাম রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, শেখ রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, তার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং অন্য মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকের।
এর পাশাপাশি অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য মেজর (ইঞ্জিনিয়ার) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা সরকারের সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকার সুযোগ নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। তারা পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর সড়কের ৬টি প্লট অনৈতিকভাবে বরাদ্দ নেন, যা তারা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না। আসামিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ১৮৬০ সালের ১৬১, ১৬৩, ১৬৪, ৪০৯, ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ১৯৪৭ সালের ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে। ২০১৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর দুদক পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু করে।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, পূর্বাচলের কূটনৈতিক জোনে শেখ হাসিনা ও পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের নামে মোট ছয়টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনার নামে ১০ কাঠার (প্লট নম্বর ০০৯) একটি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়, যার বরাদ্দপত্র ২০২২ সালের ৩ আগস্ট রাজউকের পক্ষ থেকে জারি করা হয়। তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় (প্লট নম্বর ০১৫) এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল (প্লট নম্বর ০১৭) প্রত্যেকে ১০ কাঠা প্লট পান। জয়ের বরাদ্দপত্র ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর দেওয়া হয় এবং ১০ নভেম্বর মালিকানা রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়। পুতুলের বরাদ্দপত্র দেওয়া হয় ওই বছরের ২ নভেম্বর।
শেখ রেহানা ১০ কাঠার (প্লট নম্বর ০১৩) একটি প্লট পেয়েছেন। তার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক (প্লট নম্বর ০১১) ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক (প্লট নম্বর ০১৯) প্রত্যেকের নামে একই পরিমাণ প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরপর ২০২৩ সালের ১২, ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি মামলা দায়ের করে দুদক।

