সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর দ্বিতীয় সংশোধিত অধ্যাদেশ গত বুধবার ২৩ জুলাই জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী আন্দোলনে অংশ নিলে বা অন্য সরকারি কর্মচারীর কাজ বাধাগ্রস্ত করলে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরসহ চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যাবে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগ সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এই অধ্যাদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীর কর্মে বাধা দিলে তা ‘সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে অবনমিতকরণ, বাধ্যতামূলক অবসর বা চাকরি থেকে বরখাস্তের দণ্ড দেওয়া যাবে।
অধ্যাদেশের ৩৭ (গ) অনুচ্ছেদে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে, যদি কেউ অন্য সরকারি কর্মচারীকে তার দায়িত্ব পালনে বাধা দেয় বা কাজ থেকে বিরত রাখে, তা ‘অসদাচরণ’ ধরা হবে। এর জন্য উপ-ধারা (২) অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই উপ-ধারায় বলা হয়েছে, অবনমিতকরণ, বাধ্যতামূলক অবসর বা চাকরি থেকে বরখাস্তের দণ্ড প্রযোজ্য হবে।
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এ সরাসরি ‘আন্দোলন’ শব্দটি ব্যবহার না হলেও সংশোধিত অধ্যাদেশে যে ভাষ্য দেওয়া হয়েছে, তা আইনজীবীদের মতে আন্দোলনকে নির্দেশ করে। অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, সংসদ ভেঙে থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতির নির্দেশনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে এই সংশোধনী প্রণয়ন জরুরি ছিল। রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে এই অধ্যাদেশ জারি করেছেন এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
অধ্যাদেশের ৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বা তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ ব্যক্তি অভিযোগ গঠন করবেন। অভিযুক্ত কর্মচারীকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হবে। ওই নোটিশে শুনানির জন্য ব্যক্তিগত উপস্থিতির সুযোগ থাকলেও, তাকে বাধ্য করা যাবে না।
একই সঙ্গে অধ্যাদেশে উল্লেখ রয়েছে, রাষ্ট্রপতির প্রদত্ত এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মচারী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করতে পারবেন। রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনে এই আবেদন বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দেবেন।

