ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও তার স্ত্রী ব্রিজিত মাখোঁ যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত ইনফ্লুয়েন্সার ক্যান্ডেস ওউন্সের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন। বুধবার (২৩ জুলাই) ডেলাওয়্যার সুপিরিয়র কোর্টে মামলাটি দায়ের করা হয়। অভিযোগ, ওউন্স একটি ‘বিকৃত ও অপমানজনক প্রচারণা’ চালিয়েছেন, যার উদ্দেশ্য ছিল মাখোঁ দম্পতির ব্যক্তিগত জীবন ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করা।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ক্যান্ডেস ওউন্স তার জনপ্রিয় পডকাস্টে বারবার দাবি করেছেন, ব্রিজিত মাখোঁ আসলে একজন পুরুষ এবং তার প্রকৃত নাম ‘জ্যঁ-মিশেল ট্রোগনু’—যা ব্রিজিতের ভাইয়ের নাম। এছাড়াও তিনি দাবি করেছেন, ব্রিজিত মাখোঁ লিঙ্গ পরিবর্তনের মাধ্যমে নারী হয়েছেন এবং প্রেসিডেন্ট মাখোঁর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রক্তের সম্পর্কভিত্তিক।
মাখোঁ দম্পতির দাবি, এসব ভিত্তিহীন বক্তব্য শুধু গুজব ছড়ানো নয়, বরং এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত মানহানিকর প্রচারণা। এতে তারা বিশ্বব্যাপী অপমানিত ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।
বুধবার নিজের পডকাস্টে ওউন্স বলেন, মামলায় ‘অনেক তথ্যগত ভুল’ রয়েছে এবং এটি তাকে অপদস্থ করার চেষ্টা। তিনি দাবি করেন, মামলাটির বিষয়ে কিছুই জানতেন না, যদিও জানুয়ারি থেকেই উভয় পক্ষের আইনজীবীরা যোগাযোগে ছিলেন।
তার এক মুখপাত্র বলেন, ‘এটি একটি বিদেশি সরকারের পক্ষ থেকে একজন মার্কিন সাংবাদিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন করার প্রচেষ্টা।’
মাখোঁ দম্পতির আইনজীবীরা জানান, ক্যান্ডেস ওউন্সকে তিনবার আনুষ্ঠানিকভাবে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তাতে সাড়া দেননি। বাধ্য হয়েই তারা আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।
যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘এই মানহানিকর প্রচারণা আমাদের পরিবারকে কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। আলোচনায় আসার জন্যই ওউন্স এমনটা করেছেন।’
যুক্তরাষ্ট্রে মানহানি মামলায় জনপ্রিয় ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে মামলার পক্ষে রায় পাওয়া কঠিন। এর জন্য ‘অ্যাকচুয়াল ম্যালিস’ প্রমাণ করতে হয়, অর্থাৎ প্রমাণ করতে হয় যে অভিযুক্ত ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলেছেন বা সত্যতা যাচাই না করেই বক্তব্য দিয়েছেন।
ওউন্সের ‘বিকামিং ব্রিজিত’ নামের আট পর্বের পডকাস্ট সিরিজ ইউটিউবে ২৩ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। তার এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টে অনুসারীর সংখ্যা ৬.৯ মিলিয়নের বেশি, ইউটিউবে সাবস্ক্রাইবার ৪.৫ মিলিয়নের বেশি। মামলায় এই সিরিজ এবং এক্স-এ দেওয়া পোস্টগুলোকে প্রধান প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
পডকাস্টে দাবি করা হয়, ব্রিজিত মাখোঁ পরিচয় গোপন করে জীবনের একটা বড় সময় কাটিয়েছেন, এবং মাখোঁ দম্পতির সম্পর্ক ইনসেস্টের মতো। এসব বক্তব্য ‘যাচাইযোগ্য মিথ্যা ও ধ্বংসাত্মক’ বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২১ সালে ব্রিজিত মাখোঁর লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে প্রথম গুজব ছড়ায়। এরপর সেই গুজব জনপ্রিয় পডকাস্টার টাকার কার্লসন ও জো রগানের মাধ্যমে ডানপন্থী মহলে আরও ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে গত বছর ব্রিজিত মাখোঁ ফ্রান্সে মানহানির এক মামলায় জয়ী হন। দুই নারীর বিরুদ্ধে জয় পাওয়ার পর তারা আপিল করে এবং সেই রায় বাতিল হয়। এখন ব্রিজিত দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে লড়ছেন।
বিশ্বনেতাদের এমন মানহানির মামলা বিরল হলেও ইমানুয়েল মাখোঁই প্রথম নন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ ধরনের মামলা করেছেন। তিনি ১০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ চেয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিরুদ্ধে এবং এবিসি নিউজের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করেছিলেন। পরে এবিসি’র সঙ্গে ১৫ মিলিয়ন ডলারে সমঝোতায় পৌঁছান।

