ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তোফাজ্জল হোসেন হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে ২৮ আগস্ট ধার্য হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ নতুন তারিখ ঘোষণা করেন আদালত। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ২৪ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপস্থিত ছিল। কিন্তু তারা সময় মতো প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।
শাহবাগ থানার আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক জিন্নাত আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে তোফাজ্জলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরের দিন ১৯ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। চার্জশিটে ২১ জন শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়।
এরপর ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশের দেওয়া চার্জশিটে নারাজি জমা দেন অ্যাডভোকেট সেলিম জাবেদ। তিনি মামলার তদন্ত সুষ্ঠু হয়নি বলে দাবি করেন। আদালত শুনানি শেষে ১৮ ফেব্রুয়ারি আদেশের জন্য সময় দেন। পরে তা পিছিয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি করা হয়। এরপর আবারও পিছিয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালত পিবিআইকে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেয়।
মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন:
ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জালাল মিয়া, মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিভাগের সুমন মিয়া, পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মো. মোত্তাকিন সাকিন, ভূগোল বিভাগের আল হোসেন সাজ্জাদ, আবাসিক শিক্ষার্থী আহসান উল্লাহ, ওয়াজিবুল আলম, ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, শাকিব রায়হান, ইয়াসিন আলী, ইয়ামুজ্জামান ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন ও আব্দুল্লাহহিল ক্বাফি। এর মধ্যে প্রথম ছয় জন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলার এজাহারে বাদী মোহাম্মদ আমানুল্লাহ উল্লেখ করেন, ১৮ সেপ্টেম্বর ফজলুল হক মুসলিম হলের দক্ষিণ ভবনের গেস্ট রুমে তোফাজ্জলকে জানালার সঙ্গে হাত বেঁধে স্ট্যাম্প, হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। তোফাজ্জলের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নে।
এর কয়েকদিন পর, ২৫ সেপ্টেম্বর, ফজলুল হক মুসলিম হলে প্রভোস্ট অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ মাসুমসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেন নিহতের ফুফাতো বোন আসমা আক্তার। তিনি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আক্তারুজ্জামানের আদালতে আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে এই মামলাটিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলার সঙ্গে একইসঙ্গে তদন্তের নির্দেশ দেন।
এ মামলায় শাহ মুহাম্মদ মাসুম বাদে ঢাবির শিক্ষার্থী জালাল মিয়া, সুমন মিয়া, ফিরোজ কবির, আবদুস সামাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ, আল হোসাইন সাজ্জাদ, ওয়াজিবুল আলম, আহসান উল্লাহ, ফজলে রাব্বি, ইয়ামুজ্জামান, রাশেদ কামাল অনিক, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান ও মো. সুলতানকে আসামি করা হয়েছে

