পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)–এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইমরান খান লাহোর হাইকোর্ট থেকে জামিন পাননি। ২০২৩ সালের ৯ মে সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া আটটি মামলায় জামিন আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। এরপর গতকাল শনিবার (২৬ জুলাই) তিনি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছেন।
ডন পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, এর আগে সন্ত্রাসবিরোধী আদালতও ইমরান খানের জামিন আবেদন নাকচ করে। এরপর তিনি লাহোর হাইকোর্টে যান। সেখানেও ব্যর্থ হয়ে এবার তিনি আপিল করেছেন পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালতে।
প্রবীণ আইনজীবী সালমান সাফদারের মাধ্যমে দাখিল করা আপিল আবেদনে বলা হয়েছে, ৯ মে’র সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ আনা হলেও ওই সময় ইমরান খান ছিলেন জাতীয় জবাবদিহিতা ব্যুরোর (এনএবি) হেফাজতে। ফলে সহিংসতায় তার জড়িত থাকার সুযোগই নেই।
ইমরান খানের বোন আলিমা খান দাবি করেছেন, আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জব্দ করেছে, যা পিটিশন দাখিলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইমরান খান গত দুই বছর ধরে ‘অভূতপূর্ব রাজনৈতিক প্রতিহিংসার’ শিকার। মামলাগুলোর কোনোটিতেই তার সঙ্গে সরাসরি বা বিশ্বাসযোগ্য কোনো সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করতে পারেনি প্রসিকিউশন। বরং তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে জড়ানো হয়েছে যেন কারাবাস দীর্ঘায়িত হয়, হয়রানি করা যায় এবং তার জনপ্রিয়তা ক্ষুণ্ন করা যায়।
আবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যদি ৭ মে থেকেই সহিংসতার ষড়যন্ত্র সম্পর্কে পুলিশ জানত, তবে তারা আগেভাগেই ব্যবস্থা নেয়নি কেন? এছাড়া বলা হয়েছে, প্রসিকিউশন তাদের বক্তব্য বারবার পরিবর্তন করেছে। মামলার বিবরণেও রয়েছে অসংগত ও অস্পষ্টতা। অথচ লাহোর হাইকোর্ট এই সব অসঙ্গতি উপেক্ষা করেই জামিন নামঞ্জুর করেছে। আবেদনে দাবি করা হয়, হাইকোর্ট মূলত সাজানো ও ভিত্তিহীন প্রমাণের ওপর নির্ভর করেই সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

