পাবনার বেড়া উপজেলার চাকলা ইউনিয়নের তারাপুর গ্রামে মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে হাফিজুর রহমান হাফিজ (৪৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। সংঘর্ষের পরদিন প্রতিপক্ষের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে (আজ) রোববার সকাল থেকে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকালে মসজিদ নির্মাণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়। দেশীয় অস্ত্রসহ সংঘর্ষে জড়ায় প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন। সংঘর্ষে গুরুতর আহত হাফিজুর রহমান হাফিজকে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ও পরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে তিনি মারা যান।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গতকাল শনিবার বিকালে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত লোকজন। এতে অন্তত ২০টি ঘর পুড়ে যায়—কিছু সম্পূর্ণ, কিছু আংশিকভাবে। এ সময় লুটপাটও হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বেড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, “মসজিদ নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এরপর প্রতিপক্ষের ঘরে আগুন দেওয়া হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে।”
সংঘর্ষ ও সহিংসতা ঠেকাতে আজ রোববার (ারা২৭ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে সোমবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টা পর্যন্ত এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই সময়ের মধ্যে পাঁচজন বা তার বেশি মানুষের একত্রে চলাফেরা, সভা-সমাবেশ, মিছিল, মাইক ব্যবহার এবং লাঠি, রড, দেশীয় অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। কেউ এ নির্দেশনা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

