গাজীপুর জেলা বাংলাদেশের দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ নগর। শিল্প-কারখানা ও অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের কারণে এখানের জনসংখ্যা এবং সামাজিক-আর্থিক কর্মকাণ্ড ব্যাপক হারে বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিচার ব্যবস্থায়ও। প্রতিদিন অসংখ্য ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা গাজীপুর জেলা আদালতে দায়ের হয়।
এসব মামলার সুষ্ঠু নিষ্পত্তির জন্য পর্যাপ্ত বিচারক, কোর্ট রুম, সহায়ক কর্মী ও কাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, গাজীপুর আদালতে এজলাস কক্ষে মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। এই সংকট বিচার কাজের সুষ্ঠু পরিচালনায় বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে এজলাস সংকট সামাল দিতে গাজীপুরের আদালতে দুই শিফটে বিচার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অর্থাৎ, কিছু কোর্ট সকাল শিফটে এবং কিছু বিকেল শিফটে কাজ করছে। বিচার বিভাগের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও এর কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সৌজন্য হিসেবে দুই শিফটে কাজ চালানোর ফলে:
- মামলার নিষ্পত্তির গতি কিছুটা বেড়েছে,
- বিচারক ও কর্মীদের দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে এই পদ্ধতির ফলে সমস্যা যেমন বেড়েছে:
- বিচারপ্রার্থীদের অপেক্ষার সময় দীর্ঘায়িত হচ্ছে,
- বিচারক ও আইনজীবীদের শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়ছে,
- দ্বিতীয় শিফটে পর্যাপ্ত আলো, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নেই,
- কর্মীদের মধ্যে কাজের আগ্রহ কমে যেতে পারে, যা বিচার প্রক্রিয়ার মান কমাতে পারে।
এজলাস সংকটের পেছনের কারণসমূহ, গাজীপুর আদালতের এজলাস সংকটের মূল কারণগুলো হলো:
- অপর্যাপ্ত অবকাঠামো: মামলা বৃদ্ধির তুলনায় কোর্ট ভবন সম্প্রসারণ হয়নি,
- জনবলের ঘাটতি: পর্যাপ্ত বিচারক, সহকারী ও পেশকার নেই,
- দ্রুত নগরায়ণ ও শিল্পাঞ্চলের বিস্তার: নতুন মামলা বাড়াচ্ছে,
- প্রশাসনিক অবহেলা: দীর্ঘ সময় সমস্যা থাকলেও কার্যকর সমাধান হয়নি।
এই সংকট দূর করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে:
- স্বল্পমেয়াদি: বিচারকদের কাজ ভাগ করে চাপ কমানো, নিরাপত্তা ও আলো-জ্বালানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা,
- মধ্যমেয়াদি: নতুন আদালত ভবন নির্মাণ দ্রুত শুরু করা, পদ সৃষ্টির মাধ্যমে নিয়োগ বাড়ানো,
- দীর্ঘমেয়াদি: আধুনিক ও ডিজিটাল জুডিশিয়াল কমপ্লেক্স গড়ে তোলা, মামলার ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার ও ভার্চুয়াল কোর্ট পদ্ধতি চালু করা।
বিচারপ্রাপ্তি প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এজন্য শুধু আইন নয়, এর যথাযথ বাস্তবায়ন এবং বিচার কাঠামোর সক্ষমতাও থাকা দরকার। গাজীপুরের মতো দ্রুত বিকাশমান এলাকায় এজলাস সংকট বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে ও বিচার ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তাই সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করতে হবে। এভাবেই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে ‘ন্যায়বিচার সকলের জন্য’—এ লক্ষ্যের বাস্তবায়ন।

