যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন কঠোর করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন। নাগরিকত্ব পরীক্ষা আরও কঠিন করার পাশাপাশি এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে উচ্চ বেতনের চাকরিদাতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থা পরিচালক জোসেফ এডলো এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে নাগরিকত্ব পরীক্ষা খুব কঠিন নয়। সহজে মুখস্থ করে উত্তীর্ণ হওয়া যায়। এতে প্রকৃত আইনের চেতনা প্রতিফলিত হয় না।
২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে চালু হওয়া কঠোর সংস্করণ পুনরায় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ওই সংস্করণে বেশি প্রশ্ন এবং কঠোর শর্ত ছিল। এইচ-১বি ভিসা নিয়েও সংস্কারের কথা ভাবা হচ্ছে। প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮৫ হাজার বিদেশি পেশাজীবী এই ভিসা পান। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী উচ্চ বেতনের প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এডলো বলেন, “এইচ-১বি ভিসার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মার্কিন ব্যবসা, অর্থনীতি ও কর্মীদের সহায়তা করা, যাতে তাদের জায়গা দখল না হয়।” তবে এই পরিবর্তনে তরুণ ও উচ্চ শিক্ষিত অভিবাসীরা স্থায়ী কাজের সুযোগ হারাতে পারেন বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
ক্যাটো ইনস্টিটিউটের অভিবাসন গবেষণা পরিচালক ডেভিড বিঅর বলেন, “শুধু উচ্চ বেতনের ভিত্তিতে এইচ-১বি ভিসা দেওয়া হলে বয়স্ক কর্মীরাই অগ্রাধিকার পাবেন, যারা শিগগিরই অবসর নিতে পারেন বা দেশ ছেড়ে যেতে পারেন।” তিনি আরও বলেন, “নাগরিকত্ব পরীক্ষা সহজ বলাটা অবিশ্বাস্য, কারণ বেশিরভাগ আমেরিকানই তা পাস করতে পারবেন না।”
স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগও এইচ-১বি ভিসার লটারিভিত্তিক পদ্ধতি বাতিল করে বেতনের ভিত্তিতে নতুন পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব বিবেচনা করছে। ইনস্টিটিউট ফর প্রোগ্রেসের মতানুযায়ী, এতে এইচ-১বি কর্মসূচির অর্থনৈতিক প্রভাব প্রায় ৮৮ শতাংশ বাড়তে পারে। কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষপাতী কিছু রিপাবলিকান নেতাদের সমালোচনার মাঝেও এডলো বৈধ অভিবাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে তিনি জোর দিয়েছেন, এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কাজ করে এমন অভিবাসীদের জন্য। নাগরিকত্ব পরীক্ষা ও ভিসা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের জন্য অবশ্য কংগ্রেস বা অন্যান্য ফেডারেল সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন। এ বিষয়ে দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে আলোচনা চলছে।

